শুধু মেরাদিয়া নয়, রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এসব হাট থেকে কোরবানির জন্য পশু কেনার পর হাসিলের অর্থ আদায়ের কাউন্টারে ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। হাটজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ‘স্বেচ্ছাসেবক’ বা ইজারাদারদের পক্ষের ব্যক্তিরা হাসিমুখে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি হাসিল দাবি করেন। অনেক ক্রেতাই তাদের এড়াতে না পেরে বাড়তি টাকা দিয়ে যান, যা রসিদে উল্লেখ করা হয় না। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, কাউকে তারা জোর করছেন না, কেউ খুশি হয়ে কিছু দিলেই তারা নিচ্ছেন। তবে শুক্রবারেও বিভিন্ন পশুর হাটে ‘খুশি’ হয়ে টাকা দিতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকেই।
মেরাদিয়া হাট থেকে গরু কিনে ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গরুর দাম এমনিতেই বেশি। খাজনাও কম না। তারপরও ইজারাদারদের লোকজন এসে ইনিয়ে-বিনিয়ে বাড়তি টাকা দাবি করে। এরা এমনভাবে কথা বলে, বাড়তি টাকা না দিয়ে উপায় থাকে না।’
জানতে চাইলে মেরাদিয়া হাটের কাউন্টারের একজন নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমরা তো সবার কাছে চাই না। কেউ খুশি হয়ে কিছু দিলে সেটাই আমরা নেই। আর আমরা তো ইজারাদার না। ইজারাদার আমাদের কাজের জন্য নিয়েছেন। তিনি হয়তো কিছু পারিশ্রমিক দেবেন। সেই টাকা দিয়ে কি আর ঈদ হয়!’
মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার হাজী মো. শরীফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই অভিযোগ সত্য নয়। আমার কোনও লোক কারও কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয় না। কেউ এমনভাবে টাকা নিয়ে ধরা পড়লে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেবো।’
জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্পত্তি কর্মকর্তা সামছুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সুযোগ নেই। হাটে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম আছে। যদি কেউ অভিযোগ করে, সঙ্গে সঙ্গেই জেল-জরিমানা করা হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য ওই ইজারাদারকে সিটি করপোরেশন কালো তালিকাভুক্ত করে রাখা হবে।’
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের সময় ৫ শতাংশ হারে হাসিল আদায়ের শর্তে রাজধানীতে স্থায়ী কোরবানি পশু হাট ইজারা দেওয়া হয়। ক্রেতাদের পশুর মোট মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে হাসিল দিতে হয়। এটা আদায়ের ব্যবস্থাপনা ইজারাদারকে নিজ দায়িত্বে করতে হয়।
আরও পড়ুন-
বাজারে ভারত ও মিয়ানমারের গরু, ক্রেতারা স্বস্তিতে
কোরবানির হাটে পশু: বিনা মূল্যের স্বাস্থ্যপরীক্ষা মিলছে টাকার বিনিময়ে