‘কোরবানি হাটের বর্জ্য না সরালে ইজারাদারের জামানত বাতিল’

 

সাদেক হোসেন খোকা মাঠে বর্জ্য অপসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন মেয়র সাঈদ খোকন২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন,  ‘রাজধানীতে  যেসব পশুর হাট রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব মূলত ইজারাদারদের। কিন্তু তারা অনেক সময় তা করেন না।  যেসব ইজারাদার হাটের বর্জ্য অপসারণ করেননি, তাদের জামানত বাতিল করার সুযোগ আমাদের কাছে আছে।’ শনিবার বেলা দু’টায় পুরান ঢাকার ধোলাইখাল সাদেক হোসেন খোকা মাঠে বর্জ্য অপসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার বেলা ২টা থেকে রাজধানী ঢাকার কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছে দুই সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি ও ডিডিএনসিসি)।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কোরবানির বর্জ্য সরিয়ে নগরবাসীকে একটা পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেব। আগামীকাল বেলা ২টায় উত্তর সিটি করপোরেশনের অফিসে এ বিষয়ে আপনাদের জানাব।’  

বর্জ্য অপসারণে নিজের সক্ষমতা জানান দিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমাদের দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ১৭ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এরই মধ্যে কোরবানি পশুর হাটগুলোর পরিচ্ছন্নতা কাজ চলমান রয়েছে।’ 

বৃষ্টির সময় পানির মধ্যে পশু জবাই না করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও নগরবাসী কোরবানি দিয়ে থাকেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, এ সময়  শহরে বৃষ্টি হতে পারে। নাগরিকদের প্রতি আমার অনুরোধ রইল, যদি শহরে বৃষ্টি হয়, সড়কে পানি জমে যায়, তাহলে সড়কে জমে থাকা পানির ওপরে আপনারা দয়া করে কোরবানি দেবেন না। একটু অপেক্ষা করবেন, পানি নেমে গেলে এরপর কোরবানি দেবেন। আমরা সে সব পশুর বর্জ্য তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার সব ব্যবস্থা করেছি। ’

মেয়র আরও বলেন, ‘যদি নগরীর কোনও বাসা-বাড়ি, পাড়া-মহল্লা বা অলি-গলিতে কোরবানি পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখেন, তাহলে আমাদের হট লাইনে ফোন করবেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেখানে চলে যাবেন। আমরা প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ এসএমএস ও পত্র-পত্রিকার বিজ্ঞাপনের মধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। আশা করি, জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় ঘোষিত সময়ের মধ্যে এই শহরের বর্জ্য অপসারণ করে একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে সক্ষম হব।’

ঈদে দুই সিটি করপোরেশরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিজেই তদারকি করবেন জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত প্রিয় মেয়র আনিসুল হকের অসুস্থতার কারণে আমাকে দুই সিটির কোরবানি পশুর বর্জ্য দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন তা দেখভাল করছি।’ নির্ধারিত স্থানে কোরবানি না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় সোয়া এগারশ কোরবানি দেওয়ার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। নগরীতে যে পরিমাণ কোরবানি হয়ে থাকে, তা থেকে এই স্থানগুলো অপ্রতুল। এছাড়া আমাদের সংস্কৃতিক একটা বিষয় রয়েছে, নগরবাসী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের বাড়ির আঙিনায় কোরবানি করতে পছন্দ করেন। আমরা সে ক্ষেত্রে বলছি, যারা নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে উৎসাহিত হচ্ছেন না, তারা যেন দয়া করে কোরবানি দেওয়ার পর পশুর রক্ত ভালো করে ধুয়ে পেলেন। তাদের ব্লিসিং পাউডার ও বর্জ্য রাখতে ব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ’

এ সময় মেয়রের সঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডোর মো. শফিকুল আলম, অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।