‘সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণে সাক্ষরতার বিকল্প নেই’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান (ফাইল ছবি)‘সাক্ষরতা অর্জনের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, মানুষ সচেতন হয়, স্বনির্ভর হয়, দেশে জন্মহার এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পায়, স্বাস্থ্যসূচকের উন্নয়ন ঘটে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে। সর্বোপরি পরিবার, সমাজ, দেশ তথা পৃথিবীতে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণে সাক্ষরতার কোনও বিকল্প নেই।’
বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস- ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ্ব গড়ি’। এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে নিরক্ষরতা দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করেছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্বরূপ বর্তমান সরকার ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো সাক্ষরতা পুরস্কার লাভ করে।’
মন্ত্রী মোস্তাফিজুর বলেন, “শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞানদান, জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদে পরিণতকরণ, আত্ম-কর্মসংস্থানের যোগ্যতা সৃষ্টি এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার বিকল্প সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন- ২০১৪’ করা হয়।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে জীবনদক্ষতাসহ মৌলিক সাক্ষরতা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার মধ্য হতে প্রথম পর্যায়ের জন্য ১৩৭টি উপজেলার জন্য নির্বাচিত বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।