খুতবায় মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ‘‘আজকে মুসলমানদের চিৎকার কেউ শোনে না। বিশ্বনবী মোহাম্মদ (স.)-এর বার্তা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। তিনি বলেছেন, একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের ভাই। মুসলামানদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত, আল্লাহর নবী বলে দিয়েছেন, ‘হে দুনিয়ার উম্মত, সব মুসলমান একটা দেহের মতো। চোখের মধ্যে আঘাত লাগলে পুরো শরীরে যে ব্যাথা অনুভূত হয়, ওই রকম কোনও মুসলমানের ওপর কোনও আক্রমণ হলেও মুসলিম জাতির ভেতরে এ আক্রমণের ব্যাথা অনুভব হতে হবে। অন্যথায় তুমি পরির্পূণ মুসলমান হতে পারবে না।’’
জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম খুতবায় আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের কী অবস্থা? এই বর্বরতা, নির্যাতন, জুলুম— এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ আজকে যদি এগুলোর বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, ভবিষতে এমন হতে পারে যে আমাদের ওপরও এমন নির্যাতন শুরু হবে। আজকে এই জুমার দিনে আল্লাহর আদালতে ফরিয়াদ জানাই— আল্লাহ, ওই মায়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কপালে যদি হেদায়েত থাকে, হেদায়েত দিয়ে দাও। অন্যথায় তাদেরকে ধ্বংস করে দাও।’
মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ‘এগুলো সহ্য করার মতো না। আমি, আপনি আজকে নিরব, নিস্তব্ধ। অন্তত এমন হওয়া উচিত যে প্রত্যেক মুসলমান গভীর রজনীতে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে চোখের পানি ছেড়ে দেবেন। আমরা আল্লাহর আদালতে বলতে পারি— আল্লাহ, তুমি এই নির্যাতিত মজলুম মুসলমানদের সাহায্য করো।’
রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ‘আল্লাহর নবী বলে গেছেন, সব মুসলমান একে অন্যের ভাই। তাই প্রত্যেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে (রোহিঙ্গা) সহযোহিতা করার নিয়ত করেন। আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, এখান থেকে একটা অংশ এক ভাইয়ের সহযোগিতার জন্য পাঠিয়ে দেবো। আমাদের সরকারপ্রধানও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরকে (রোহিঙ্গা) আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের সরকার তাদের খেতে দিচ্ছে। আপনারা অন্তত নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করবেন। একদিন না একদিন আল্লাহ তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চয় করে দেবেন।’
আরও পড়ুন-
‘৯৭ বছরে এমন বর্বরতা দেখিনি’
রোহিঙ্গাদের পালানোর পথেও মৃত্যুফাঁদ (ভিডিও)
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোহিঙ্গা শিশুরা স্যালাইন পাচ্ছে না