রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় চায় জেলা প্রশাসন

ব্যক্তিগত পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেওয়া নিষিদ্ধ না, তবে তা সমন্বয় করে দিতে চায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ (ছবি: ফোকাস বাংলা)অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যারা ত্রাণ দিতে চান, তাদের স্বাগত জানাই। যাতে সব পরিবার সমানভাবে ত্রাণ পায়, সেজন্য আমরা সমন্বয়ের কথা বলেছি। সমন্বয় না হলে অনেক জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে না। এছাড়া রোহিঙ্গাদের রাস্তা থেকে সরানোও যায় না।’

এডিসি বলেন, ‘যারা ত্রাণ নিয়ে আসবেন তারা আমাদের জানাবে, আমরা বলে দেবো, কোথায় কোথায় ত্রাণ দিতে হবে। যাতে এক জায়গাতে দু’বার ত্রাণ বিতরণ না হয়।’

রবিবারও দিনব্যাপী ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ দিতে দেখা গেছে। তবে কুতুপালং দিয়ে প্রবেশের পেট্রল পাম্পের কাছে জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। তারা গাড়িগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে সঙ্গে গিয়ে ত্রাণ দিচ্ছেন।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে বিদ্যানন্দ নামের সংগঠনটিশামসুল আলম ও জাফর আলম দুই ভাই কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকা থেকে ত্রাণ দিতে কুতুপালং আসছেন। তাদের বাবা মো. ফোরকান বলেন, ‘আমরা নিজেরাই ত্রাণ দিচ্ছি। বিস্কুট, পানি, চিড়া ও গুড় দিয়েছি।’

এসময় দেলোয়ার হোসেন নামে তাদের এক আত্মীয় বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নূরুল হক ছিলেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ দিয়েছি। তিনি আমাদের নাম-ঠিকানা লিখে রেখেছেন।’

এদিকে ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ‘বিদ্যানন্দ’ রবিবার দুপুরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছে, পুলিশের মৌখিক অনুমতি না পেলে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

তাদের ফেসুবক পেজে জানানো হয়, ‘আজ ৩,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য রান্না করছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা। মিয়ানমারে মৃত্যুমুখ থেকে ফেরা এসব ভিনদেশি অভুক্ত মানুষের মুখে খাবার দেওয়ার কাজ করছে বিদ্যানন্দ ঈদের পর থেকেই। এই কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ জানতে আমরা আজ পুলিশের সঙ্গে কথা বলছি। যদি মৌখিক অনুমতিও না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমাদের এই কার্যক্রম চালানো আর সম্ভব হবে না।’

এছাড়া ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডাব্লিউএফপি) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় এনজিও মুক্তির মাধ্যমে নতুন আসা ১২ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে তারা। নতুন করে আরও ১৬ হাজার পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

মুক্তি কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) মো. নূরুল আজিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৯ অক্টোবর থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নভেম্বরে ত্রাণ দেওয়া শুরু করি। এবার যারা আসছে তাদেরও দিচ্ছি। প্রতি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে গণহত্যা শুরু করলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসা শুরু করেন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে, বলে অভিযোগ করেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।