এর আগে নাজমুল হক প্রধান রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের ওপর সংকট চাপিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় চাল আমাদানির জন্য আপনি সেখানে গিয়েছেন। এটা কতটা যৌক্তিক ছিলো।’
জবাবে মিয়ানমার থেকে চাল আমদানির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দ্রুত চাল পাওয়া যাবে– এই চিন্তা থেকেই চাল আনতে মিয়ানমারে গিয়েছিলাম। মিয়ানমার থেকে আমাদের এখানে চাল আসতে মাত্র তিন দিন সময় লাগে। সেই তুলনায় থাইল্যান্ডসহ অন্য দেশ থেকে চাল আসতে বেশি সময় লাগে। এছাড়া, দামের বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে সেই হিসেবে মিয়ানমারের চালের দামও তুলনামূলকভাবে কম পড়বে।’ তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের সঙ্গে তিন লাখ টন চাল আনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এখন এক লাখ ২০ হাজার টন পাওয়া যাবে। বর্তমানে চালের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী।
জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের আপদকালীন মজুদ কমে যাওয়ায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
চাল আমদানির অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, জি টু জি (সরকারের সঙ্গে সরকার) চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল দেশে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া, কম্বোডিয়া থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল ও রাশিয়া থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আরও চার লাখ মেট্রিক টন চাল ও দেড় লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই দরপত্রের আওতায় থাইল্যান্ড থেকে ৩২ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন, ভারত থেকে ১৬ হাজার ৩০১ মেট্রিক টন ও মিয়ানমার থেকে ২১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে।’
আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের (চাল ও গম) মোট প্রাক্কলিত চাহিদা প্রায় ৩ কোটি এক লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ চাল এবং ১০ ভাগ গমের চাহিদা হিসেবে ধরা হয়।’
চাহিদা অনুযায়ী দেশে যথেষ্ট চাল উৎপাদন হলেও বর্তমানে গম উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঘাটতি রয়েছে। অতিমাত্রায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত না হলে স্বাভাবিক বছরগুলোয় দেশীয় উৎপাদন (প্রায় তিন কোটি ৪৬ লাখ মেট্রিক টন) দিয়ে চালের চাহিদার পুরোটাই মেটানো সম্ভব হয়। তবে দেশে উৎপাদিত গম (প্রায় ১২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন) দিয়ে এক-তৃতীয়াংশের কম চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। ফলে আমদানির মাধ্যমে গমের বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ করা হয়ে থাকে।