কখনও হেঁটে, কখনও নদীপথ পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপে জড়ো হচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সেখানে আসতে দেখা যায় তাদের। নিরাপদ আশ্রয় আর খাবারের খোঁজে কেবল শূন্য চোখে ছুটে চলেছে সব বয়সের মানুষেরা। কেউ কেউ এতটাই শীর্ণকায় যে, ঝুড়িতে বসিয়ে তাদের ঝুলিয়ে আনা হচ্ছে। এভাবেই শাহপরীর দ্বীপ থেকে ফটো সাংবাদিক শামীম আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে তার অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপটা বিচ্ছিন্ন। এটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণের অংশ। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে দ্বীপটি গঠিত।’
তিনি জানান, শাহ পরীর দ্বীপে এসে জড়ো হচ্ছে অনেক রোহিঙ্গা। তারা সকালে জেটিঘাট থেকে টেকনাফে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারপর তারা আবারও হেঁটে গিয়ে দক্ষিণপাড়ের দিকে অপেক্ষা করতে থাকে। যাদের মাধ্যমে তারা এদিকটায় এসেছে, তাদের দেওয়া তথ্যমতে দক্ষিণপাড় দিয়ে ট্রলারে করে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গাদের। এদের কেউ পাঁচ দিন হেঁটে, কেউ দু’দিন অভুক্ত থেকে এ পযয়ন্ত এসেছে। ভাষা অপরিচিত, দেশ অপরিচিত, তবুও এখানে অন্তত প্রাণ বাঁচবে বলেই বিশ্বাস তাদের।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে দুই হাজার একর জমির ওপর একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রে নতুন ছয়টি ক্যাম্প করা হবে। সেখানেই থাকবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা। সরকারের হিসাবে এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৯০ হাজার।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা শামীম আহমেদ বলেন, ‘এদের কারও কথা বলার সামর্থ পর্যন্ত নাই। এরপর কী হবে সেই পরিকল্পনাও নেই।’ দু’জন বৃদ্ধকে মাইলের পর মাইল রাস্তা পাঁজাকোলে করে বয়ে নিয়ে আসতে দেখা গেছে। সে এক অমানবিক দৃশ্য। আবার মানুষ কত মানবিক সেটারও দেখা মিলছে সেখানে।
জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমান রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গার সংখ্যা কমবেশি ৩৪ হাজার। তবে নতুন রোহিঙ্গা শুমারি অনুযায়ী, দেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় চার লাখ। আর মিয়ানমারে সাম্প্রতিক হামলার কারণে নতুন করে আরও প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এর ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।