সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে কোনও ইন্সট্রাকশন (নির্দেশনা) নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এদিকে ত্রিশদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ আবেদন করার কথা থাকলেও এখনও তা না করায় প্রশ্ন উঠছে, এই ত্রিশদিন গণনা হবে রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর থেকে নাকি পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশের দিন থেকে। এবিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর থেকে ত্রিশদিনের মধ্যে রিভিউ এর সুযোগ থাকে।
গত ১৬ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫দিন পর সার্টিফাইড কপি চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। রিভিউ কবে নাগাদ হবে প্রশ্নে রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইন্সট্রাকশন এলেই রিভিউ হবে। আমার কাছে তেমন কোন ইন্সট্রাকশন আসে নাই।’
গত ১ আগস্ট বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে ‘অবৈধ’ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। সেই হিসেবে ত্রিশদিন পার হয়ে গেছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আর কতদিন সময় পাবে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমরা সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করেছি। সেটি হাতে পাওয়ার পর থেকে ত্রিশদিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা যায়। তবে আমার কাছে সরকারের কোনও ইন্সট্রাকশন নেই।
গত ১৮ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, এই রায়ের বিষয়ে পড়া হচ্ছে, ভালোভাবে পড়ে রিভিউ আবেদন করা হবে। এ জন্য সময় লাগছে।
কতদিন সময় পাওয়া যাবে এবিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রায় ঘোষণা বা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকে নয়, রিভিউ করার জন্য ত্রিশদিন গণনা শুরু হবে সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর থেকে।
যদিও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলছেন, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘আপিল বিভাগের কোনও ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকিবে।’ কিন্তু কতদিন এর ভেতর সেসব উল্লেখ নেই। এর অনেককিছুই চর্চার মধ্য দিয়েও নির্ধারিত হয়। সুপ্রিমকোর্টের বিধি অনুযায়ী রায় প্রকাশের পর থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে রিভিউয়ের বিধান আছে।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে পাস হয়, এটা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত। সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবীর এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৬ সালে সংবিধানের ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। পরে গত ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
ষোড়শ সংশোধনী বাতিল: রায়ের সত্যায়িত কপি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন