সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত: স্পিকার

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (ফাইল ছবি)

বিচারক অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পদ্ধতিতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, সংসদকে ‘অকার্যকর’ বলা জনগণকে অপমান করার শামিল।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদের সপ্তদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্পিকার বলেন, ‘সংবিধান নির্ধারিত পরিধি লঙ্ঘন করতে পারে না রাষ্ট্রের কোনও অঙ্গ। তিনটি অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের কোনও একটি অঙ্গ কর্তৃক অন্য অঙ্গের বিষয়ে কটাক্ষ কাম্য নয়। এ ধরনের কাজ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।’

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সঙ্গে বাহাত্তরের সংবিধনের ৯৬ অনুচ্ছেদের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করে। ৯৬ অনুচ্ছেদের আলোকে বিচারক অপসারণের বিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে না, বরং অধিক সুসংহত করে। ৯৬ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রমাণিত অসামর্থ্য বা অসদাচরণ তদন্তে প্রমাণিত হতে হবে। প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি বা বিচারকের অসদাচরণ সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন। এই সব উপাদান সমন্বয়ের মাধ্যমই কেবল জাতীয় সংসদ কর্তৃক ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করা যাবে। সে কারণে সংসদ কর্তৃক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ৯৬ অনুচ্ছেদ ব্যবহার সম্ভব নয়।’

শিরীন শারমিন বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা কেবল তিন জন বিচারকের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে বিচারকের ভাগ্য তিন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল। এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে এবং তার প্রবণতা দেখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘পাওয়ার করাপ্টস, অ্যন্ড অ্যাবসোলিউট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসোলিউটলি… আমরা ডেমোক্রেসিতে বাস করি, জুরিস্টোক্রেসিতে নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আর নির্বাহী বিভাগ সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। বিচার বিভাগেরও দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ গণতন্ত্রের হৃদপিন্ড। সংসদ অকার্যকর, এমন কথা বলা ক্রিয়াশীল গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য অপমানজনক।’

দশম সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের আজকের গণতন্ত্রের যে অগ্রযাত্রা তা একদিনে অর্জিত হয়নি। অনেক আন্দোলন সংগ্রাম, রক্তঝরা পথ বেয়ে এসেছে আজকের গণতন্ত্র, আজকের সংসদ।’

এরপর স্পিকার অধিবেশনের সমাপ্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান। ১০ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশন শুরু হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এই অধিবেশন ৫ কার্যদিবস চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটি। এ অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার একটি প্রস্তাব এবং সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য, এই অধিবেশনে মোট ২টি বিল পাস হয়। এছাড়া ৭১ বিধিতে পাওয়া ১৪৭টি নেটিশের মধ্যে ৬টি নোটিশ গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে আলোচনা হয়েছে ৩টি। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশ্ন জমা পড়ে ৯৭টি। যার মধ্যে সংসদ নেতা জবাব দেন ৯টি প্রশ্নের। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য এক হাজার ৬৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে; মন্ত্রীরা উত্তর দেন ৪৬৪টির।