চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফায়েজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন। এই বার্তাটি দৃঢ় কিন্তু মার্জিতভাবে মিয়ানমারকে দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন,‘আমরা জোরালো কূটনীতি চালিয়ে এসেছি এবং তার কিছুটা ফল দেখতে পাচ্ছি।এর ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।’
মিয়ানমারের ইউনিয়ন মন্ত্রীর সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময়ে তাদের দোষারোপের চেয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে সহিংসতা রোধে বাংলাদেশের একাধিক প্রস্তাব আছে এবং মিয়ানমারকে আবারও সেগুলো মনে করিয়ে দিতে পারে আমাদের সরকার।’
সম্প্রতি মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপনের চুক্তি করার প্রস্তাব করা হয়েছে তিন বছর আগে। কিন্তু মিয়ানমার এখনও চুক্তিগুলো করতে আগ্রহ দেখায়নি। নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার বিষয়ে মুনশি ফায়েজ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল কী হবে সেটি বলা মুশকিল, তবে আমাদের উচিত হবে এমন একটি সম্ভাব্য পথ সমর্থন করা যা সবাই মেনে নেবে এবং একই সঙ্গে আমাদের অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে শহীদুল হক বলেন,‘মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে না করে বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনা করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন,‘আমার অভিজ্ঞতা বলে তারা দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। আমার ধারণা, তারা এই আলোচনার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করতে চাইছে।’
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি এখন জটিল হয়ে পড়বে। কারণ মিয়ানমারের একটি পুরনো আইন আছে যাতে বলা হয়েছে– কোনও ব্যক্তির বাড়ি পুড়ে গেলে সেই জমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত হবে।’ ২০১২ সালে তার মিয়ানমারে চাকরিকালের অভিজ্ঞতা থেকে শহীদুল হক বলেন,‘সেই বছরের অক্টোবর মাসে রাখাইনে চায়াকপো নামের একটি জায়গায় কামান সম্প্রদায়ের মুসলিমরা বাস করতো। বাসস্থান আগুনে পুড়ে গেলে তাদের একটি ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়।এখন চায়াকপোর ওপর দিয়ে চীনের গ্যাস পাইপলাইন বসানো হয়েছে।’
বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তার সঙ্গে মিয়ানমারের অপরাধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও জনমত গড়ে তোলার কাজটি করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, ওই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড অবরোধ’ দেওয়া যায় কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে পারে বাংলাদেশ।
গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাখাইনে কঠোর সেনা অভিযান শুরু হলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।