পদ্মার উভয় তীরে দিনরাত এক করে পুরোদমে চলছে বাংলাদেশের দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণের কাজ। সেতু নির্মাণের সব কাজ তদারকি করছে সেনাবাহিনী।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষের দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু চালু করার কথা রয়েছে।
পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দ্বিতল বিশিষ্ট। সাধারণ যানবাহনের জন্য ওপর তলা আর রেললাইন বসানো হবে নিচ তলায়। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।
সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, যেখানে থাকবে চার লেনের সড়ক। পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট।
সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং হবে ৬টি। সেই হিসাবে মোট পাইলিংয়ের সংখ্যা ২৬৪টি।
সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন কাজ চলছে ১৯টির। পিলার বসবে পাইলের ওপর। পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি।
এসব পিলারের ওপরই বসানো হবে এক একটি স্প্যান। স্প্যানের ওপর ঢালাই দিয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে। একেকটি স্প্যানের ওজন হবে প্রায় তিন হাজার টনের (২ হাজার ৯শ টন) মতো।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় (মূল সেতুতে তৃতীয় দফায় বাড়ানোসহ) ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছর পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ ৫২৪ কোটি টাকা।
এ প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। সেতু প্রকল্পে কাজ করছে এমন জনবলের পরিমাণ প্রায় চার হাজার।
পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতুর রঙ হবে সোনালি। তবে রাতে সেতুটিতে জ্বলজ্বল করবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ বাতি।
সরকারের নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে এই মুহূর্তে সরকারের লক্ষ্য একটাই। আর তা হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া।
আরও পড়ুন-
শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে: সেতুমন্ত্রী