মিয়ানমার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া লোকদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের একটি জাতিগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের কারণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিগত নির্মূলের হাত থেকে বাঁচার জন্য গত ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের স্থান ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শুধু মানবিক কারণে তাদের আমরা সহায়তা করছি। মিয়ানমারে এবারের আগ্রাসনের আগেও তিন দশক ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছি আমরা।’
ঢাকায় একটি অভিজাত হোটেলে রবিবার (১ অক্টোবর) তিনি এই কথা বলেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠককে সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক এক বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন। ‘মিটিং অন স্মার্ট প্লিজেস’ শীর্ষক এই বৈঠকে যোগ দেন জাতিসংঘের অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ড সাপোর্ট লিসা এম বাটেনহেইম।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিনিয়তই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা। দারিদ্র ও সংঘর্ষ ছাড়াও জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া রোগ, বৈষম্য-নির্যাতন ও উচ্ছেদের মতো অন্যান্য বৈশ্বিক ইস্যুগুলো মানবতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এসময় জাতিসংঘের প্রতিরক্ষা মিশন সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহামুদ আলী বলেন, ‘শান্তি মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের সাংবিধানের মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতেই বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অবদান রাখতে আমরা শান্তি মিশনে অংশ নেই। শান্তি মিশনের কার্যক্রমকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখি।’ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের কোনও আহ্বানই বাংলাদেশ কখনও উপেক্ষা করেনি বলেও জানান তিনি।
শান্তিরক্ষী মিশন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন এবং বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ মিশনের অন্যতম বৃহত্তর সৈন্য সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই পিছপা হবে না। আমরা শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দিচ্ছি।’
এই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি মিশনের প্রথম সারিতে থাকার ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে গেছে। এই উদ্যোগ শান্তি মিশনে দেশগুলোর একত্রে কাজ করার বিষয়ে বাস্তবসম্মত একটি পথ প্রদর্শন করে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের ডাকে কিভাবে আরও ভালোভাবে সাড়া দেওয়া যায় সে বিষয়ে আগামী দুই দিন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা গঠনমূলক আলোচনা করবেন বলেই আমি আশা করি।’
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর মিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিহত তিন বাংলাদেশি সেনা সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহামুদ আলী। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। শান্তির জন্য তারা নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এই ত্যাগ আমাদের ঋণী করে রাখল।’ (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)