প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু ১৯৭৮ সালে। এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘তিন দশক ধরে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে যখনই আন্তর্জাতিক চাপ কমে যায়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা তার গতি হারায়।’
জানতে চাইলে সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত একমাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে রাখাইনে মানুষ হত্যা, ঘরে আগুন দেওয়া, ধর্ষণ করাসহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিত। সে কারণে নিরাপত্তা পরিষদে একইসুরে কথা বলেছেন ১৩ জন সদস্য ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুটেরেস।’ তিনি বলেন, ‘স্যাটেলাইটের ছবি থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন বা বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে এই নারকীয় ঘটনার প্রমাণ প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে লুকানো সম্ভব নয়। মিয়ানমার বিষয়টি জানে বলেই আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।’
রাখাইনে চলমান ধ্বংসযজ্ঞের তথ্যপ্রমাণ প্রতিদিনই সংগ্রহ করা হচ্ছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব প্রমাণ সামনের দিনগুলোয় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপ বজায় থাকলে বাংলাদেশে অবস্থিত সব রোহিঙ্গাকে দ্রুত ফেরত পাঠানো সম্ভব।’ আবার চাপ কমে গেলে আলোচনা দীর্ঘায়িত হবে।’
এ বিষয়ে আরও সোচ্চার হওয়ার জন্য বাংলাদেশ এখন স্থানীয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সহায়তা করছে উল্লেখ করে সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসিসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি, যেন রোহিঙ্গা ইস্যুটি চাপা পড়ে না যায়।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্যাতন শুরু করলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে। এই পর্যন্ত পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথমভাগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।