প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং বিশ্বাস করেন এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয়। আষাঢ়ে পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি এ তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব পালন করা হয়।
বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের মতে, মহামতি গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তাঁর মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। আর তাই প্রতিবছরই প্রবারণা পূর্ণিমার তিথিতে আকাশে ওড়ানো হয় শত শত ফানুস। প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা, হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বালন ও ছোঁয়াইং দানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব পালন করে। ফানুস ওড়ালে তার সঙ্গে মারমাদের অতীতের সব পাপ ফানুস বাতির সঙ্গে উড়ে যায়। তাই তারা নিজেদের পাপমুক্ত করার জন্য প্রতিবছরই আকাশে ফানুস ওড়ান।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এবার এই উৎসবের জৌলুস পরিত্যাগ করেছেন, এবার উড়বে না কোনও ফানুস। বরং ফানুসে যে টাকা খরচ হয়ে থাকে তা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সেবায় গঠিত ত্রাণ তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ নেতারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের আহ্বায়ক সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরুসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবারের মতো বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকে ধর্মীয় রীতি-আচার সবই পালন করা হবে। কেবল ফানুস উড়ানো পর্বটি স্থগিত করা হয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বান্দরবানে প্রবারণা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কোকোচিং জানান, প্রতিবছরই চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এবছর বান্দরবানে তা কমিয়ে দুই দিনব্যাপী করা হচ্ছে। মিয়ানমারের সহিংসতায় বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা জানাতেই এ বছর অনুষ্ঠানসূচিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় ফানুস ওড়ানো ও রথযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হবে। আর শুক্রবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে রথ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে শহরের সাংগু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসবের।
তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা জানাতে অনুষ্ঠানসূচিতেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবছর পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানকে ঘিরে খেলাধুলার আয়োজনও থাকছে না।
আরও পড়ুন- রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার, আরও তিন লাখের বাংলাদেশে প্রবেশের শঙ্কা