নৌপথে কার্গো চলাচলের জন্য গঙ্গা খনন করবে ভারত

গঙ্গা নদী (ছবি- সংগৃহীত)

নৌপথে পণ্য ও মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধির জন্য ভারতকে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ভারতও নদীপথে কার্গো চলাচল বৃদ্ধির জন্য গঙ্গা নদী খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কলকাতাভিত্তিক অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এটি সুখবর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মাত্র কয়েকদিন আগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নৌ পথে যোগাযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। কম খরচে পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে তিনি এই আহ্বান জানান।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে ভারতের কেন্দ্রীয় নৌ-পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গাড়করিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হালদিয়ার থেকে বারানসি পর্যন্ত এক হাজার ৬২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথ বিশাল পরিমাণে কার্গো চলাচলের জন্য চালু করা হবে। আগামী কয়েক বছরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে চার হাজার ২০০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক টার্মিনাল, নেভিগেশন লক ও রাতের কার্গো চলাচলের জন্য বন্দরগুলোতে সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হবে।

গড়করি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে গঙ্গা নদী দিয়ে ৪ হাজার টন ওজনের কার্গো চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এতে করে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বার্জগুলো দেড় থেকে দুই হাজার টন বহন করতে পারে। কিন্তু চার হাজার টনের বার্জ চলাচলের জন্য নদীর গভীরতা বাড়াতে হবে এবং বড় ধরনের খনন কাজ প্রয়োজন পড়বে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ পথে বাণিজ্যিক কার্গো চলাচল ও অন্যান্য কাজে টার্মিনাল পয়েন্ট হিসেবে হালদিয়া ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত কয়েক মাসে চাল থেকে শুরু করে ভারী ভারী প্রকৌশল সরঞ্জাম বাংলাদেশের নদী দিয়ে ত্রিপুরা পাঠানো হয়েছে। ১৯৭২ সালের স্বাক্ষরিত উভয় দেশের চুক্তি মোতাবেক এই নৌ চলাচল হচ্ছে। যে চুক্তিটি ২০১৫ সালে হালনাগাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশও এই নদীপথটি ভারতে পণ্য বহনের কাজে ব্যবহার করে।

ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত তাজপুর ও সাগর দ্বীপ বন্দরে ভারী কার্গো ও ট্যাংকার চলাচলের ক্ষমতা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার।
কেন্দ্র সরকার নীতিগতভাবে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।

উভয় দেশ মনে করে, নদীপথে আরও কয়েকটি ছোট বন্দর গড়ে তোলা যেতে পারে। কারণ, উভয় দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের মাত্রা ও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  বাংলাদেশ এক্ষেত্রে নৌ-পরিবহনকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ভারতের সঙ্গে যেসব যৌথ নদী রয়েছে সেগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উভয় দেশই মনে করে, দ্রুত পচনশীল পণ্য ছাড়া অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহার করলে খরচ অনেক কমে আসবে এবং পরিবেশ দূষণ কমবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: 

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে ১৯৯২ সালের সমঝোতা বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী