আজ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত রোহিঙ্গা বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারী ও সহযোগিতা ছাড়া মিয়ানমারকে দীর্ঘ মেয়াদী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আগ্রহী রাখা দুষ্কর হবে। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায় বহুপাক্ষিক, আঞ্চলিক, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এ সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিতভাবে মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে হবে। যাতে দেশটির সরকার রাখাইনে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও জীবন-যাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। সামরিক বাহিনী নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়।
রোহিঙ্গা সমস্যা এখন শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি এখন আঞ্চলিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। তাছাড়া, এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নয়। এই সমস্যার সৃষ্টিতে বাংলাদেশের কোনও ভূমিকা নেই। সমস্যার সৃষ্টি ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানে নিহিত।
তিনি জানান, ১৯৭৮, ১৯৯২, ২০১২, ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। মিয়ানমারের বিগত সামরিক ও সেনা সমর্থিত সরকারগুলো রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে অধিকার বঞ্চিত করে ‘রাষ্ট্রহীন’ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। ১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পথ রুদ্ধ করেছে।
১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পথ রুদ্ধ করেছে। তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অধিকারসহ সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার মূলে রয়েছে বৈষম্য ও অধিকার বঞ্চিত করার রাষ্ট্রীয় নীতি। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে অধিকারহীন হয়ে চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের চলাচল, জীবিকা, বিবাহ, সন্তান জন্মদানসহ সব বিষয়ে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে স্বাভাবিক জীবন ধারণের সব উপায় বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর উপর সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা চৌকিসমূহে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পূর্বপ্রস্তুতি অনুযায়ী, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইনের মংডু, রাথিডং ও বুথিডং এলাকায় অভিযান চালায়। এরপর থেকে রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়তে শুরু করে। ২৫ আগস্ট ২০১৭ থেকে এখন পর্যন্ত ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যার সঙ্গে বর্তমানে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা মিলে ৯ লাখের বেশি বাংলাদেশে অবস্থান করছে।