মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদ আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা প্রবেশ শুরু হয়েছে। আমরা ১৯৯১ সাল থেকে মোকাবিলা করছি। প্রায়ই দুজন-চার জন করে আসতো। এখন অনেকেই অনেক কথা বলেন, যুদ্ধ করার কথা বলেন, আমরা কার সঙ্গে যুদ্ধ করবো? আমরা যুদ্ধ বিশ্বাস করি না। পাকিস্তান-ভারত জন্মের পর থেকে যুদ্ধ করছে। কোনও সমাধান হয়নি। সে জন্যই আমরা মনে করি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আলাপ-আলোচনার মধ্যে বিষয়টি শেষ করতে হবে।’
মিয়ানমারের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট কথা, আপনাদের নাগরিকদের আপনারা কবে নেবেন, কিভাবে নেবেন, সেই কথা বলুন। এদের যার যার জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। সেই সহযোগিতা করুন। আমাদের কর্মসূচি সেটাই থাকবে। তারা (মিয়ানমার) বলেছে, যদি তাদের দেশের নাগরিক প্রমাণ হয়, তাহলে তারা ফেরত নেবে। আমরা প্রমাণ করার ব্যবস্থা করছি, তাদের নিবন্ধন করছি, সবাইকে আইডি কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যেভাবে বিতাড়িত করা হচ্ছে, তাতে যেমন আমরা ব্যথিত, তেমনি আরাকান সলিডারিটি আর্মি যেভাবে হামলা ও হত্যা করেছে তাতেও আমরা ব্যথিত।’
রোহিঙ্গা প্রবেশের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনও দেশের সেনাবাহিনী বর্ডার এলাকায় থাকতে পারে না। আমরা দেখেছি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বর্ডার অঞ্চলে এমনকি কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই টহল দিচ্ছে। আরেকটি দৃশ্য দেখেছি— তারা সীমান্তে মাইন পুঁতে রেখেছে। আমরা দেখেছি, ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। হেলিকপ্টার দিয়ে রোহিঙ্গাদের তাড়া করা হয়েছে। এই দৃশ্যগুলো আমরা দেখেছি। কোনও কোনও হেলিকপ্টার আমাদের দেশেও এসেছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যেকবার প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে ২৮ বার।’
রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২১ জন এইচআইভি রোগী পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। এর আগে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এইচআইভি রোগী ১৯ জন।