নিরাপদ পানীয় জলের জন্য বর্তমানে দেশের প্রতিটি গ্রামে ৫০টিরও বেশি নলকূপ রয়েছে। আর স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের হার শতকরা ৯৯ ভাগ। রবিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বরে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০১৭’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ এর প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বিগবেডার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সুধীর কুমার ঘোষ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০১৭’ উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। এ কর্মসূচি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতিসংঘের আহ্বানে ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের হাত, আমাদের ভবিষ্যত’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার সচিব বলেন,‘বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রগতিতে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল চ্যালেঞ্জ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামগ্রিক বাস্তবতা ও অন্তরায়গুলো উপলব্ধি করে এ অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিলেন।
সচিব বলেন,‘বিশ্বে প্রতিবছর পঁয়ত্রিশ লাখেরও বেশি শিশু শুধুমাত্র ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের আগেই মৃত্যুবরণ করে। সাশ্রয়ী পন্থা সাবান দিয়ে দুই হাত ধোয়ার অভ্যাস অনুশীলন করার মতো স্বাস্থ্যবিধি অনুকরণ করে লাখ লাখ শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এই দিবস উদযাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাত ধোয়া কার্যক্রম সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা এ কাজে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবেন বলে আমরা আশা করি।’
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন বলেন,‘জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’-এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য সমতা ও পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার সুযোগ সৃষ্টি করাসহ খোলা জায়গায় মলত্যাগ নির্মূল করা এবং নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য পরিচর্যার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপনের লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
ইউনিসেফ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বিগবেডার বলেন,‘স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। ইউনিসেফ স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রমে বাংলাদেশের পাশে থেকে সবসময় কাজ করবে।’
এর আগে সকাল ৯টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শিক্ষা ভবন থেকে শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৫০০ ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে হাত ধোয়া কার্যক্রমের মাধ্যমে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয়।