দুই লাখ রোহিঙ্গাকে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস তুরস্কের

রোহিঙ্গা সংকট

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে দুই লাখের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তুরস্ক। এছাড়া রান্নাবান্নার জন্য রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির ব্যবস্থা করবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

রবিবার (২২ অক্টোবর) সচিবালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে তার দফতরে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেবরিম ওজতুর্ক। এসময় ডেবরিম ওজতুর্ক এ তথ্য জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হাবিবুল কবির এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময়ে দু’দেশের নেতারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আলাপকালে মন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে তুরস্ক সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মত বিনিময়কালে ত্রাণমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর সমাধানে সরকার ও দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ মুহূর্তে ৫০ হাজার টিউবওয়েল ও শৌচাগার প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে ৭  হাজারের অধিক স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ করে দিয়েছে। ইউনিসেফও ১০ হাজার শৌচাগার নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছে। এ অবস্থায় মন্ত্রী তুরস্কের কাছে ২০ হাজার টিউবওয়েল ও ২০ হাজার শৌচাগার নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করলে তারা এতে সম্মত হন।

এসময় রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, ক্যাম্প এলাকায় শিগগিরই দু’টি বড় ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্র ও ১০টি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করবে তুরস্ক। এর আগে তুরস্ক ২০ হাজার শেড নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ত্রাণমন্ত্রীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার করেন রাষ্ট্রদূত।

ত্রাণমন্ত্রী তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন, রোহিঙ্গারা জোয়ারের মতো আসা শুরু করায় তাদের প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে শেড নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের জন্য টেকসই শেড নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করে তুরস্কে শরণার্থীদের যে ধরনের শেড করা হয়েছে, একই ধরনের শেড বাংলাদেশেও করে দেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

তুরস্কে শরণার্থীদের ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ জানালে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ ধরনের সফর হতে পারে বলে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।