আগামী রবিবার (২৯ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্দিষ্ট স্থান জানানো হতে পারে। পদ্মার ওপারে চিহ্নিত দু’টি স্থানের মধ্য থেকে একটিকে চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তথ্যটি আগেই প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, এ কারণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বেসামরিক বিমানের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা‘ বিষয়ক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ১৩৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ১৯ কোটি ৫৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া, চলতি অর্থ বছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি বিষয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য গত বছরের ৩১ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর তারা ওই বছরের ১ অক্টোবর কাজ শুরু করে। তারা পদ্মার ওপারে তিনটি জায়গা নির্ধারণ এবং এর সুবিধা-অসুবিধাসহ একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন গত জুনে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করে। পরে সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে সেখান থেকে মন্ত্রণালয় দু’টি জায়গাকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে। এ দু’টির মধ্য থেকে চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণে মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে কিছুদিন আগে চিঠি দেয়। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের জায়গা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্ডেশন দেখাসহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য আগামী রবিবার সময় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সাইট সিলেকশনসহ তার ঘোষণা আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের লোকেশন ঘোষণা হবে। সুনির্দিষ্ট করে সময় বলতে পারছি না।’ বিমানবন্দরটি পদ্মার ওপারে হবে বলেও তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান।
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে আলোচনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের রবিবার সময় দিয়েছেন। ওইদিন তিনি বিষয়টি দেখবেন। তিনি যদি সাইট সিলেকশন করে ঘোষণা দিতে বলেন, তাহলে সেটা করা হবে। না হলে তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সেই অনুযায়ী আমরা এগুবো।’ বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর পদ্মার ওপারেই হবে বলেও জানান মেনন।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু স্থানীয় জনগণ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে করে দেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে জনগণের আন্দোলনের মুখে সরকার আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং নতুন করে পদ্মা নদীর ওপারে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
এদিকে বিগত কয়েকটি বৈঠকের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও সোনারগাঁও ও রূপসী বাংলা হোটেলের উন্নয়ন কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কমিটি সোনারগাঁওয়ের সংস্কার কাজের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও রূপসী বাংলা নতুন করে চালু করার প্রাথমিক সময় নির্ধারণে কমিটি কিছুটা আশস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী ৩১ ডিসেম্বর রূপসী বাংলা (হোটেল শেরাটন) আংশিকভাবে এবং ৩১ জানুয়ারি থেকে তারা পুরোপুরি অপারেশনে যাবে বলে আমাদের নিশ্চিত করেছে। আর সোনারগাঁও হোটেলের সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদাররা নাকি জানিয়েছে, তারা আগামী বছরের অক্টোবরে কাজ শেষ করতে পারবে। তবে কমিটি এতে সম্মত হয়নি। কমিটি সময় আরও এগিয়ে আনতে বলেছে।’ আগামী বৈঠকে তারা এ বিষয়টি জানাবে বলেও তিনি জানান।
কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মো. আলী আশরাফ, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল আশরাফ খান, মো. আফতাব উদ্দিন সরকার এবং বেগম সাবিহা নাহার অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে জেদ্দা, আবুধাবিসহ বিদেশের কয়েকটি স্থানে বাংলাদেশ বিমানের জিএসএ (জেনারেল সেলস এজেন্ট) এর মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সেখনে নতুন করে জিএসএ নিয়োগ না দেওয়ায় বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরে বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি ।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়সহ কয়েকটি চলমান প্রকল্পে কাজের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে কমিটির সভাপতি জানান। তবে, তারা কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষও প্রকাশ করেন বলে উল্লেখ করেন। পরে প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত না হওয়ার বিষয়ে তদন্ত করে বেবিচকের চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয় ।
বৈঠকে চট্রগ্রাম শাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সব প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে সমাপ্ত, সব কাজের মনিটরিং করা এবং কোনও প্রকল্পে সমস্যা হলে সে বিষয়ে কমিটিকে অবহিত করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয় ।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গাড়ি পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রবেশ দ্বারের সার্বিক উন্নয়ন করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
সম্প্রতি একনেক-এ পাস হওয়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করে কমিটি ।
আরও পড়ুন:
‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার’