দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এটাই জাতির পিতার স্বপ্ন। আমরা সব মানুষের কথা ভাবি। শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশের সবার বসবাসের সুব্যবস্থা করতে চাই।’ বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের পরিত্যক্ত প্লটের ওপর আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মানুষকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার কথায়, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে এটাই নিজের কর্তব্য বলে মনে করি আমি। জাতির পিতা আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার কথা। আমরা সেটাই করে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য। এটাই জাতির পিতার শিক্ষা। মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাই। এর মধ্যেই আছে জীবনের সার্থকতা।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এগুলোতে থাকবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। বস্তির তুলনায় এখানে ভাড়াও কম হবে। চাইলে ভাড়া মাসিক, সাপ্তাহিক কিংবা প্রতিদিন চাইলেও দিতে পারবে। ফ্ল্যাটগুলোতে প্রিপেইড বিদ্যুৎ কার্ড, শিশুদের খেলাধুলা, চিকিৎসা সেবাসহ সব ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানা যায়। 

ধানমন্ডির ১, ২, ৬/১, ১০/১, ১২/১, ১৫/১ (নতুন) মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড, আসাদ অ্যাভিনিউ, হুমায়ুন রোড ও এলিফ্যান্ট রোডে এসব ফ্ল্যাট তৈরি হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি চাই না বস্তি থাকুক। এটা কোনও দেশের জন্য সম্মানজনক ব্যাপার নয়। তাছাড়া বস্তিতে যারা থাকে তারাও তো মানুষ। তাদেরও ভালোভাবে বাঁচার অধিকার আছে। তারা কেন মানবেতর জীবনযাপন করবে? এজন্যই আমরা বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

এ সময় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা গেছে— দুই একর জায়গার ওপর ১৫শ থেকে ২৫শ বর্গফুটের মোট ২৫৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ২০২টি বিক্রি করা হবে জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। বাকি ৫১টি হস্তান্তর করা হবে সরকারের আবাসন পরিদফতরে। প্রকল্পের মেয়াদকাল অক্টোবর ২০১৭ থেকে জুন ২০২০ সাল। প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৭৩ কোটি টাকা। 

মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও সরকারি কর্মকর্তারা অপেক্ষাকৃত কম খরচে ৫০ শতাংশ অর্থ বিনা সুদে ও বাকি অর্থ ৯ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে পারবেন।
আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
আরও পড়ুন-

বস্তিবাসীর জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে