আদালতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন খালেদা জিয়া: দুদকের আইনজীবী

আদালতে খালেদা জিয়া (ছবি: ফোকাস বাংলা)আদালতে দুই দিন বক্তব্য রাখার পরও আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ করতে পারেননি খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী সপ্তাহে আরও একবার বক্তব্য রাখবেন তিনি। তবে আদালতে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছেন মামলা দায়েরকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বক্তব্য মামলা সংশ্লিষ্ট না। উনার বক্তব্য রাজনৈতিক। উনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ইতিহাসসহ রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি আদালতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন না। এরপরও আমি বাধা দেইনি। সম্মান করেছি। উনি যে বক্তব্য দেবেন তা লিখিত আকারে জমা দেন বলে উল্লেখ করেছি।’

এদিকে খালেদার পক্ষের আইনজীবী রেজ্জাক খান বলেন, ‘এর আগে অন্য মামলায় দিনের পর দিন এভাবে বক্তব্য চলেছে। তাই এটি যুক্তিসঙ্গত। আগামীদিন খালেদা জিয়াকে বক্তব্য শেষ করতে হবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার বকশিবাজারে ঢাকার অস্থায়ী পাঁচ নম্বর আদালতে পৌঁছান। সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি বক্তব্য দেন। সোয়া ১টার দিকে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান মামলার পরবর্তী তারিখ ২ নভেম্বর নির্ধারণ করে আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন। ওইদিন খালেদা জিয়াকে বক্তব্য শেষ করতে হবে।

খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানি করেন।     

২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। আর এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। দুই মামলার অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন- বিচার বিভাগের হাত-পা বাঁধা, তাই ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত আমিও: খালেদা