৩০ নভেম্বরের আগেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে টার্ম অব রেফারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

আসাদুজ্জামান খাঁন কামালস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর মিয়ানমারে সফরে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। এর আগেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে জয়েন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। তারা টার্ম অব রেফারেন্স (টিআর) তৈরি করবে এবং সেই টিআর এর ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’  

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী এবং সবশেষে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা কেউই অস্বীকার করেননি যে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবেন না। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মিয়ানমারের নেতাদের বলেছি, রোহিঙ্গারা যদি বেশি দিন বাংলাদেশে থাকে, তাহলে বিশ্ব জঙ্গিবাদের সঙ্গে ওরা একত্রিত হতে পারে। এটি যদি হয় তাহলে তোমরা এবং আমরা সবাই সমস্যায় পড়বো। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তবে তারা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চায়। সেজন্য কিছুটা সময় লাগবে।’

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সু চি’কেও আমি একই কথা বলেছি। ওনাকে বাড়তি যা বলেছি তা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। একইভাবে আপনিও মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাখাইনরা যে বাংলাদেশে এসেছে এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়। আজ থেকে ১০০ বছর আগেই তো তারা কুয়াকাটায় এসেছিল। তারাতো এখনও আছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার তখন আমাদের বলেছে, এটি মিয়ানমার সেনাবাহিনী করেনি। দুষ্কৃতকারীরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।’ এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কোনও দুষ্কৃতকারীর অবস্থান নাই। বাংলাদেশ কোনও দুষ্কৃতকারীদের প্রশ্রয় দেয় না। তোমাদের দেশে যদি কোনও দুষ্কৃতকারী থাকে তাদের তালিকা দাও। আমরা ব্যবস্থা নেবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না।’

এ সময় সু চি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি অনুরোধ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সু চি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা তো মিয়ানমারে ফিরে আসতে চায় না। তোমরা ওদেরকে ফিরে আসার জন্য উৎসাহিত করো, অনুপ্রাণিত করো।’ সু চি’র অনুরোধের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা যদি তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় বাসস্থান এবং জীবনধারণের ব্যবস্থাপনা সুনির্দিষ্ট করতে পারো, তোমাদের প্রতি আস্থা তৈরি করতে পারো, মোট কথা একটি শান্তির পরিবেশ যদি নিশ্চিত করতে পারো, তাহলে ওরা আসবে। তবে এর জন্য তোমাদেরকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অনুসরণ করতে হবে।’

এ সফরকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না দেখি না। এটি একটি সফল ট্যুর।’