এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন আহমেদ সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। দুই-একদিনের মধ্যে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি যাবে। এতে আগ্রহী দলগুলোকে আবেদন করতে বলা হবে।’ তিনি জানান, ‘নতুন দল নিবন্ধনে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর কমিটি তা যাচাই-বাছাই করে দেখবে। নিবন্ধনের শর্তগুলো কারা পূরণ করতে পেরেছে, তা দেখা হবে। এরপর এই বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সব বিবেচনা করে যেসব দলকে যোগ্য পাওয়া যাবে কমিশন নিবন্ধন দেবে।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আগ্রহীরা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইসিতে আবেদন করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, ইসি একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সেখানেও নতুন দলের নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। রোডম্যাপে বলা হয়েছে অক্টোবর ২০১৭-এ নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিবন্ধন দেওয়া হবে। মার্চ মাসে নতুন-পুরনো মিলিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ এই কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলে রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন দলের নিবন্ধন ছাড়াও বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করছে কিনা, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ফেব্রুয়ারি মাসে দলগুলোর নিবন্ধন বহাল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিবন্ধিত দলগুলো তাদের শর্ত মানছে কিনা, তা জানার জন্য শিগগিরই ইসি দলগুলোকে চিঠি দেবে বলে জানা গেছে।
নতুন দলের নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তিতে দলগুলোর স্বীয় লেটারহেড প্যাডে আবেদন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, প্রতীক লোগো, নির্বাচনি ইশতেহার, বিধিমালাসহ ১০ ধরনের দলিল জমা দিতে বলা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ (এ) অনুসারে নির্বাচন কমিশন আগ্রহী দলগুলোকে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধন দিয়ে থাকে। আরপিও অনুযায়ী তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়। শর্তগুলো হলো:
১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনও জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটি যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন।
২. যেকোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পায়।
এবং
৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ (২১ টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকে।
বর্তমানে দেশে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। আগে ৪২টি দল নিবন্ধিত থাকলেও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
গত ২০০৮ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন-প্রক্রিয়া শুরু হয়। জরুরি অবস্থার সরকারের সময় এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করে। ওই অনুযায়ী আরপিও সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয়, দলগতভাবে নির্বাচন করতে হলে সেই দলের নিবন্ধন থাকতে হবে। এর আগে যেকোনও রাজনৈতিক দল দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারতো।
জানা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় হুদা কমিশন। ‘ওয়ান ইলেভেনে কিং পার্টি’খ্যাত কিছু রাজনৈতিক দলও ওই সময় নিবন্ধন পায়। পরে কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ কমিশনের সময় দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও আরেক দফা নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি হয় ওই সময় ৪৩টি রাজনৈতিক দল ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। কিন্তু ৪১টিই দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘যোগ্যতা’ প্রমাণ করতে পারেনি। মাত্র দু’টি দল শর্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যালয় ও কমিটি থাকার তথ্য দিয়েছিল। এরপরে তাদের নিবন্ধন দেয় কমিশন। দল দু’টি হলো, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।
এদিকে নিবন্ধনের জন্য গত বছর থেকে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল চেষ্টা তৎপরতা শুরু করেছে। কয়েকটি দল থেকে এ বিষয়ে কমিশনকে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে চিঠিও দিয়েছে। কেউ কেউ সাক্ষাৎ করে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সংলাপেও অনেক রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কথা বলেছে। তারা দলগুলোর জন্য নিবন্ধনের শর্ত শিথিল করারও দাবি জানিয়েছে। এছাড়া সভা-সমাবেশেও অনেক রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত শিথিল করতে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।