বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতি ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কথা জানানো হয়। এ স্বীকৃতিকে বাঙালি জাতির জন্য সম্মানের বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমরা তো আগেই বলেছি, এটা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ। মাত্র ১৭ মিনিটে এমন ভাষণ পৃথিবীতে কেউ কখনও দেয় নাই। এর আগে যারা দিয়েছেন, তারা লিখিত দিয়েছিলেন। এ ভাষণের মধ্যে বাংলাদেশের (তাৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) ২৪ বছরের অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যত ছিল। কেন তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন সবই আছে এতে। পাকিস্তানের ২৩ বছরের নির্যাতনের ইতিহাসও ছিল। এ ভাষণের পর গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। দেরিতে হলেও ইউনেস্কো এটাকে গ্রহণ করেছে। এজন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। এটা বাঙালি জাতির বড় অর্জন ও গৌরবের।’
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘এ স্বীকৃতি দেশের ও বাঙালি জাতির জন্য সম্মানের। এ ভাষণ শুধু দেশের নয়,পৃথিবীর সম্পদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ভাষণ এখনও প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ শোনে। এ ভাষণের আবেদন সব সময়ই থাকবে। একজন নেতা কিভাবে দেশের মানুষকে সংগঠিত করেছেন, এ ভাষণ তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এ ভাষণ এখন পৃথিবীর সবাই পড়বে।’
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘দেরিতে হলেও ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেজন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। এ ভাষণ ছিল ঐতিহাসিক। এটা ছিল মানুষের আবেগ ও শিহরণ তৈরি করার মতো ভাষণ।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, অনন্য ও বিরল ভাষণের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোয় ইউনেস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ পৃথিবীর ১০টি ভাষণের মধ্যে স্থান পেয়েছে। অন্য ভাষণগুলো লিখিত, আর বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ অলিখিত। এ ভাষণে তিনি জাতির সামনে একটি দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। বলা যায়, একটি সন্তান প্রসবের আগেই সন্তান কিভাবে চলবে,তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ ভাষণে সমাজ ব্যবস্থা, গণতন্ত্র, লক্ষ্য , স্বাধীনতা, মুক্তি, অনুপ্রেরণাসহ সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে। এ ভাষণ রাজনৈতিক ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই ইতিহাস বিকৃতির চর্চা চলছে। ইতিহাস থেকে এ ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করে বঙ্গবন্ধুর সব স্মৃতিকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন। তার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আজ পৃথিবী বিখ্যাত।’
আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা সংকলন হিসেবে এ ভাষণ স্থান পেয়েছে। গবেষকরা অনেক আগেই এ ভাষণের স্বীকৃতি দিয়েছেন। দেরিতে হলেও ইউনেস্কো ভাষণের স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।’
আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি