রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজুলেশনের দাবি সিপিএ সম্মেলনে

সিপিএ সম্মেলনে সাংবাদিকের বিভিন্ন বিষয় অবহিত করেন মিডিয়া কমিটির পক্ষে কাজী নাবিল আহমেদ

ঢাকায় চলমান কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজুলেশন আনার দাবি উঠেছে। ররিবার সিপিএ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ব্রিফিংকালে সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের ডেলিগেটদের (প্রতিনিধি)পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়। এ বিষয়ে সিপিএ চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সিপিএ নির্বাহী কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ডেলিগেটদের আশ্বস্ত করেন। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহও দেখিয়েছেন কয়েকটি দেশের ডেলিগেটরা।

সিপিএ সম্মেলনে রবিবার বিকাল ৩টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ এজেন্ডা হিসেবে সম্মেলনে আগত অতিথিদের রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফ করেন। এ সময় তিনি ২০ জন মতো ডেলিগেটের প্রশ্নের জবাব দেন। ব্রিফিং সেশনে সভাপতিত্ব করেন সিপিএ চেয়ারপারসন শিরীন শারমিন চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল আকবর খান। পরে সিপিএ সম্মেলনে মিডিয়া কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে বিশ্বের ১৮টি পার্লামেন্টের ডেলিগেটরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিপদগ্রস্ত মানুষদের স্থান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনের উদারতা দেখিয়েছেন ও দেশের মানুষ হৃদয়ের বিশালতার প্রমাণ দিয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সরকারের আচরণকে অনেক দেশ গণহত্যা ও জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করেছেন বলে কাজী নাবিল আহমেদ জানান।

ব্রিফিংয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ডেলিগেটদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন দেশে গিয়ে তাদের সংসদে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর পক্ষে তাদের দেশেও জনমত গড়ে তোলেন। যেন তাদের সরকার এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায়। যেন মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত এই সমস্যাটির সমাধান করা যায় সে বিষয়েও আহ্বান জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি জানান, জাতিসংঘের তৃতীয় কমিটি (সোশ্যাল-পলিটিক্যাল) যেটা রয়েছে-যেটির সভাপতিত্বে রয়েছে আইসল্যান্ড―সেখানে বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে একটি রেজুলেশন জমা দেওয়া আছে। ওই রেজুলেশনের পক্ষে কো-স্পন্সর পাওয়ার জন্য এখানকার ডেলিগেটদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডেলিগেটদের অনুরোধ করা হয়েছে, তাদের দেশ যেন কো-স্পন্সর হিসেবে আমাদের দেশের পক্ষে অংশগ্রহণ করে। ওই রেজুলেশনই এই মাসের মাঝামাঝি সময় ভোটাভুটিতে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, উগান্ডা, ইংল্যান্ড, কানাডা, মাল্টা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েলসসহ সিপিএর সব অঞ্চল থেকে কথা বলা হয়েছে।

অনেকে প্রস্তাব করেছেন যেন রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সিপিএর সাধারণ অধিবেশনে রেজুলেশন নেওয়া হয়। সিপিএ চেয়ারপারসন জানিয়েছেন, নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে কোনও রেজুলেশন নেওয়া যায় কী না সেটা তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন।

আগামী ৭ নভেম্বর সিপিএ সাধারণ সম্মেলনে রেজুলশেন গ্রহণ করা হবে। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজুলেশন আনতে হলে কোনও সদস্যদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং সাধারণ সম্মেলনে ভোটে তা গৃহীত হতে হবে।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছি যেন অতি দ্রুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজস্ব বাসভূমিতে ফিরিয়ে দিতে পারি। এই সমস্যার মূল কিন্তু মিয়ানমারে। সমাধানও করতে হবে তাদের। বাংলাদেশ থেকে আমরা কেবল মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সমস্যা সমাধানে আমরা তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছি।

কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র দেখতে যেতে চেয়েছেন,এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের ডেলিগেট সেখানে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা জাতীয় সংসদ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

এ সময় সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ, তানভীর ইমাম ও ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী উপস্থিত ছিলেন।