বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনে সহিংসতা ও জাতিগত নির্মূলের চর্চা অবিলম্বে শর্তহীনভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যথাসম্ভব দ্রুত নিজেদের বাড়িঘরে ফেরা নিশ্চিত করতেও মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আনান কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে, শর্তহীনভাবে ও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানিয়েছে সিপিএর সাধারণ পরিষদ।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সভায় সিপিএর মহাসচিব আকবর খান বিবৃতিটি তুলে ধরেন। এ সময় সিপিএর চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং বিবৃতিটি গ্রহণ করার জন্য হাউসের প্রতি আহ্বান জানান। পরে বেশ কয়েকজন ডেলিগেটে এর ওপর আলোচনা করেন। একমাত্র বারবাডোজের প্রতিনিধি ছাড়া সবাই এটি গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে বিবৃতিটি গৃহীত হয়।
বিবৃতিতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নৃশংসতা, নিপীড়ন, জাতিগত নির্মূল, বাস্তুচ্যুতি ও প্রাণহানিসহ নির্বিচারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিন্দা জানাতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্ট ও আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে, মিয়ানমারের ভেতরে ও বাইরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সসম্মানে, নিরাপদে নিজ বাড়িঘরে ফেরা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিতে দেশটির সরকারকে অনুরোধ করতে কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় বিবৃতিতে। বাংলাদেশের এ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দিতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর মানবিক সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে সিপিএর সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত হয়েছে।