বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কর্মশক্তি অপ্রতুল: আবদুল ওয়াহ্হাব

বার কাউন্সিলের সভা দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৩০ লাখের বেশি মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কর্মশক্তি খুবই অপ্রতুল।

শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত ২০১২ সালের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নবীন আইনজীবীদের শপথ বাক্য পাঠ করান এবং আইনজীবীদের হাতে অ্যাডভোকেটশিপ সনদ হস্তান্তর করেন।

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনজীবীরা বিচার ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারাই আইন ও বিচারকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। আইনজীবীদের মুখ্য কাজ হলো সবার জন্য মানসম্পন্ন সুবিচার নিশ্চিতকরণে আদালতকে সহায়তা করা। 

তিনি বলেন, বর্তমানে বিচার বিভাগ তথা বিচারক ও আইনজীবীদের কর্ম পরিধি আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে গত চার দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি,  জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির ঘটনা যেমন ঘটেছে;  একইসঙ্গে মামলার সংখ্যা, আইনের সংখ্যা ও বিচারপ্রার্থীদের সচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের সঙ্গে বিগত তিন দশকে তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ মাধ্যমের বিপ্লবের কারণে আইন ও আইনচর্চার জগতের সীমা ও জটিলতা উভয়ই বেড়ে চলেছে। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৩০ লাখ মোকদ্দমা শুনানি ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কর্মশক্তি খুবই অপ্রতুল। এটা খুব স্পষ্ট যে, দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা অনেক কম। তা সত্ত্বেও ঝুলে থাকা মামলাগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ। কারণ, বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেছেন। এছাড়া আমাদের এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে, আদালতে সার্বিক কার্যক্রমও যেন একইরকম দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়ে না যায়। এটা বাস্তবায়ন করার চেয়ে বলা অনেক সহজ। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা থাকলে কোনোকিছুই অসম্ভব নয়।

এসময় দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি নবীন আইনজীবীদের এই পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের পরামর্শ দেন।    

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইন পেশাকে সমুন্নত রাখতে আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই আইন পেশায় দক্ষতা ও নিয়মিত পড়াশোনা অত্যন্ত জরুরি। আইন পেশার মান ও মর্যাদা অক্ষু্ণ্ন রাখতে আইনজীবীদের সচেষ্ট থাকতে হবে। নিজেদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। অন্যদিকে, বার কাউন্সিলেরও উচিত মেধা ও দক্ষতা যাচাই করে নবীণ আইনজীবীদের সনদ দেওয়া।

সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, সাবেক আইনমন্ত্রী মতিন খসরুসহ অনেকে।