রবিবার সকাল ১০টার দিকে শ্যাওড়াপাড়া থেকে উত্তরার দিকে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী রাশেদুন্নবী। নিজের গাড়ি না নিয়ে উবার ডাকেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনকে রাশেদুন্নবী বলেন, ‘রাস্তার কী অবস্থা আন্দাজ করতে পারছি না। নিজের গাড়ি নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যদি বসে থাকতে হয় তাহলে কাজ হবে না। তাই উবার নিয়েছি। অবস্থা দেখে ব্যবস্থা করা যাবে।’
ব্যাংক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড থেকে রিকশায় এসেছেন কলাবাগান। সেখানে কাজ করে উবার নিয়েছেন মতিঝিল যাবেন বলে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমি ড্রাইভারকে ছুটি দিয়েছি। আজ বিকালে সমাবেশ। আমি মতিঝিল থেকে গাড়ি নিয়ে ফিরতে পারবো না। তাই গাড়ি বের করারই দরকার নেই। ঢাকায় আজই এরকম হলো তা তো না। এরকম আগেও হয়েছে। কিন্তু বের হয়ে দেখি জ্যামও আছে। এরকম পরিস্থিতিতে নানা কৌশল করেই তো আমাদের এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।’
রাশেদ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, বাড্ডা থেকে মোটরসাইকেল সার্ভিস পাঠাওয়ে প্রতিদিন পান্থপথে নিজের অফিসে আসেন তিনি। আজ অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও সার্ভিসের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আজ সার্ভিস বিজি। এরকম হয় না। পরে একজনকে পেয়ে অফিসে এসেছি। পাঠাওয়ের চালক জানান, সকাল থেকে একটার পর একটা যাত্রী নামিয়েছেন। মূলত যারা বাসে যাতায়াত করেন তারা বাস না পেয়ে পাঠাও সার্ভিস নিয়েছেন।’
রবিবারের এ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে উবার চালক মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ সকাল থেকে বসার সুযোগ হয়নি। রাস্তা ফাঁকা থাকায় অনেকগুলো ট্রিপ দিতে পেরেছি। মানুষ আগেই জানে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সাধারণত যারা উবার কম ব্যবহার করেন তারাও আজ উবার-পাঠাও দিয়েই কাজ শেষ করছেন। সে কারণে রাস্তায় প্রাইভেটকারও বেশি।’
পাঠাও এর চালক সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সবসময়ই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এমন লোকজনই আমাদের সার্ভিসটা বেশি নেন। সচরাচর ডাকেন না এমন মানুষকেও আমি নিজে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছি। বেশকিছু এলাকায় রাস্তা একদম ফাঁকা থাকায় কাজও সহজ হয়েছে।’