রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর দিতে হবে না আখ চাষিদের

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি- ফোকাস বাংলা)‘চিনি (রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর) আইন, ২০১৭’-এর খসড়া উত্থাপন করা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এই খসড়া উত্থাপনের পর ১৯৬০ সালের সালের The Sugar (road development cess) Ordinance রহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে এখন থেকে আখ চাষিদের আর রাস্তাঘাট উন্নয়নে কর দিতে হবে না। তবে নতুন আইনটি আবার পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় আনা হবে। এটি পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে পুরাতন আইনটি রহিত হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর দুপুরে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তেজগাঁও কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৬৯ সালের The Sugar(road development cess) Ordinance রহিত করে নতুন আইন করা হচ্ছে। আইনটি সংসদে পাস হলে পুরোনো আইনটি রহিত হবে।’
নতুন আইন করার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এখন পুরনো আইনটি আর প্রয়োজন নেই। রাস্তাঘাট বিভিন্ন সংস্থা করে ফেলেছে। ফলে সুগার মিল এলাকার রাস্তাঘাট আর সুগার মিলের করার প্রয়োজন নেই। কৃষকের কাছ থেকে রাস্তাঘাটের উন্নয়নে উপকর নেওয়া মানে তাই হয়রানি। তাই নতুন আইন করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, বিদ্যমান আইনে প্রতিমণ আখে কৃষি কলেজ ও সুগার মিল এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে দুই টাকা ৫০ পয়সা করে কেটে নেওয়া হয়। এছাড়া, প্রতিগাড়ি আখের মোট মূল্যের সঙ্গে পয়সার অংশ থাকলে সেই অংশটুকু কেটে নিয়ে জমা করা হয় চাষি কল্যাণ সমিতির ফান্ডে। এর বাইরে প্রতিগাড়ি আখে শিওর ক্যাশের জন্য কেটে নেওয়া হয় ১০ টাকা।
নতুন আইন পাস হলে এই টাকা আর কৃষককে দিতে হবে না।
এছাড়া, আবহাওয়া অধিদফতরকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে ‘আবহাওয়া আইন, ২০১৭’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আবহাওয়া সংক্রান্ত আইন না থাকায় নতুনভাবে এই আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, জলবায়ু সর্ম্পকিত সব ধরনের বিপর্যয় সর্ম্পকে আগাম তথ্য পাওয়া যায়। কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল, অ্যারোনোটিক্যাল মুভমেন্টের জন্য এগুলো দরকার।