১৯১০ সালের ‘ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্ট’ বাতিল করে নতুন আইন করতে বিলটি সংসদে তোলা হয়েছে। বিলে বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন প্রতিষ্ঠান করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যুৎ চুরির জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা চুরি হওয়া বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার (যেটা বেশি হয়) বিধান রাখা হয়েছে। আগে এ অপরাধের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। প্রস্তাবিত আইনে চুরি ঠেকাতে বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
বিলে বিদ্যুৎ চুরির জন্য কোনও যন্ত্র বা ডিভাইস ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আগে এ অপরাধের জরিমানা ছিল ২০ হাজার টাকা।
বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ চুরি করলে ওই ব্যক্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা চুরি হওয়া বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
খসড়া আইনে বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্যও এক থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কেউ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি বা অপসারণ করলে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যুৎকেন্দ্র বা উপকেন্দ্র, বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি বা অন্য যন্ত্রপাতি নাশকতার মাধ্যমে ভেঙে ফেললে বা ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা বিদ্যুৎ সরবারহ বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বা যন্ত্রের ওপর কোনও বস্তু নিক্ষেপ করলে বা রাখলে সাত থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হবে।
বিলে বলা হয়েছে, সরবরাহ এলাকার বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে বা বিদ্যুৎ লাইন বা কোনও অবকাঠামো বসালে, আইন বা বিধির কোনও বিধান লঙ্ঘন করলে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখলে, ত্রুটিযুক্ত বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
আগে বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনও শাস্তির বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী বিধি লঙ্ঘন করেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনও পূর্তকর্ম সম্পাদনকালে লাইসেন্সি কোনও ক্ষতি, অনিষ্ট বা অসুবিধার সৃষ্টি করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অথবা বৈদ্যুতিক টাওয়ার নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত জমির জন্য ভূমির মালিককে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ দেবে।
বিদ্যুতের কোনও লাইন মেরামত, সংস্কার বা নতুন সরবরাহ লাইন বসানোর কাজে যাতে টেলিফোন, ইন্টারনেট বা সাবমেরিন কেবলের কোনও ক্ষতি না হয়, সেজন্য কাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়ে জানানোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে খসড়া আইনে।
বিলে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সমন্বিত আকারে পরিচালনা করতে সরকার একটি স্বতন্ত্র সিস্টেম অপারেটর প্রতিষ্ঠা করবে। এই অপারেটর নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রবাহ মনিটরিং, সিডিউলিং এবং মেরিট ডেসপাস ও বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে লোড বরাদ্দ করবে।