সেনানিবাসে মাতলামি ও ভিক্ষাবৃত্তিতে জরিমানা বাড়াতে সংসদে বিল

জাতীয় সংসদসেনানিবাস এলাকার রাস্তাঘাটে মলমূত্র ত্যাগ, মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি বা জুয়া খেললে শাস্তি হিসেবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। সেনানিবাস এলাকায় খোলা অবস্থায় মাংস বহন এবং অনাবৃত করে বিকলাঙ্গতা ও ব্যাধি প্রদর্শনের মতো ঘটনাতেও একই শাস্তি পেতে হবে। এ ধরনের বিধান রেখে মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘সেনানিবাস বিল-২০১৭’ উত্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিলটি সংসদে তোলেন সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রায় একশ বছর আগের ‘ক্যান্টনমেন্টস অ্যাক্ট-১৯২৪’ আইন নতুন করে প্রণয়ন করতে এ বিলটি আনা হয়েছে। আগের আইনের ২৯২টি ধারা থেকে কিছু বাদ দিয়ে এবং নতুন কিছু সংযোজন করে মোট ২১৮টি ধারা রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

প্রস্তাবিত আইনে জনগণের দৃষ্টির সামনে খোলা অবস্থায় মাংস বহন, বিকলাঙ্গতা ও ব্যাধি অনাবৃত করে প্রদর্শন, মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি, জুয়া খেললে ও রাস্তাঘাটে মলমূত্র ত্যাগ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের আইনে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল এক টাকা। খসড়া আইনে সেনানিবাস এলাকায় বেসরকারি বাজার বা কসাইখানা স্থাপনের শাস্তি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর লাইসেন্স ছাড়া বাজার বা কসাইখানা খুললে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে তিন হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সেনানিবাস এলাকায় অবৈধ নির্মাণের জন্য আগে ৫০০ টাকা জরিমানা ছিল। প্রস্তাবিত আইনে সেটি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। আগে এই অপরাধের শাস্তি ছিল ২০০ টাকা জরিমানা। বিলে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করলে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে দুই হাজার এবং সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, আতশবাজি বা গুলি ছুড়লে আগে ৫০ টাকা জরিমানা ছিল। প্রস্তাবিত আইনে এটি কমপক্ষে তিন হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে অবৈধভাবে পানি ব্যবহার করলে তিন হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এজন্য বর্তমানে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হতো। সেনানিবাস এলাকায় নিবন্ধনের বাইরে কুকুর পোষলে পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ বলতে গিয়ে মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, প্রস্তাবিত আইনে বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যে (ক) সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদফতরকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে, (খ)সামরিক আবাসিক প্রকল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং (গ) বিভিন্ন ফি ও আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।