ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে পরিত্যক্ত জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ বছরের জন্য ভ্রাম্যমাণ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিমার্ণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। তিনি বলেন, ‘ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তিনশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। দেশটির এপিআর এনার্জি কোম্পানি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট নৌমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা সিস্টেমকে আরও আধুনিকায়ন করতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নদী খননের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা ১০টি ড্রেজার কিনবো।’
হঠাৎ করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিল কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। এটা রুটিন ওয়ার্ক। আইএমও’র শর্ত অনুসারে বিশ্বের সব বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন সেটা তদন্ত করতে হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সংস্থাটি চট্টগ্রামের নৌবন্দর পরিদর্শন করেছিল। দুই বছর পর আবারও তারা এটা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আগামী ২৭ নভেম্বর আইএমও’র কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরে ১ ডিসেম্বর আইএমও কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সংস্থাটির ‘বি’ ক্যাটাগরির সদস্য। ২০০১ সাল পর্যন্ত ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ছিলাম। ওই বছর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় ‘বি’ ক্যাটাগরিতে এসেছিলাম। তবে যদি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকতে হলে এবার ভোট প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্র আইএমও’র ‘এ’ ক্যাটাগরির সদস্য। তাই বৈঠকে আগামী ১ ডিসেম্বরের কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভোট চেয়েছি।’’
শাজহাজান খান বলেন, ‘বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংশা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পক্ষ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমাদের পক্ষে অবস্থান করবে বলে আশা করছি।’
বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্লুম বার্নিকাট বলেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা এখানে একটি ভ্রাম্যমাণ বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চাই। সরকারের কাছে জমি চেয়েছি। আমাদের জমিও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। আরও ভালো করতে পরামর্শ দিয়েছি। যা আইএমও স্ট্যান্ডার্ড হবে।’
এ সময় নৌ সচিব আব্দুস সামাদ, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।