শনিবার বেলা ১২টার দিকে তামান্না ভাইয়ের আদরের কন্যার জন্মদিন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি মোবাশ্বারের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘ভাইয়া দেখো, তোমার পুতুলটা অনেকগুলা পুতুলের মধ্যে বসে আছে। তোমার মতো অতো কিছুতো আর আমি দিতে পারি না, তাই অল্পস্বল্প খেলনা আর কেক নিয়ে গিয়েছিলাম কাল। কি খুশি সে! আমরা কেক কাটবো, ছবি তুলবো, তাই সে নতুন জামা পড়েছে। দেখো কেমন প্রিন্সেসের মতো লাগছে!’
তিনি লিখেছেন, ‘তোমার চেহারার সাথে এতো মিল ওর। ওকে দেখলে এখন কোথায় যেন সুক্ষ্ম একটা ব্যাথা করে। তবুও ওর সাথে যতক্ষণ ছিলাম, মনেই ছিলো না যে তুমি নাই! মনে হচ্ছিলো তোমার একটা অংশের সাথেই তো আছি।’
"দাদা দাদুর সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছিলাম বাবুকে। বাবুর সাথে কথা বলার সময় আব্বুর গলা ধরে এসেছিলো আমি স্পষ্ট টের পেয়েছি। ভাইয়া তুমি কি আব্বুকে কখনো কাঁদতে দেখেছো? দেখোনি, কিন্তু এখন আমার প্রায় প্রতিদিনই দেখতে হয়। আব্বু ঘুরেফিরে এখন একটা কথাই বলে 'আহারে আমার ছেলেটা!"
মেয়ের আগাম জন্মদিন পালনের বিষয়ে বলতে গিয়ে স্ট্যাটাসে লেখা হয়েছে, ‘ও এলসা টয়ের সাথে কতক্ষণ নেচে বেড়ালো। ট্রান্সফর্মারের ভ্যানটা নিয়ে লাফালাফি করলো। আমাকে নিয়ে ওর সবগুলা খেলনা দেখালো। কেক কাটার পর ওপর থেকে মাকারুনটা খুব আগ্রহ নিয়ে খেলো। ওর জন্যে যে সফট টয় টা নিয়ে গিয়েছিলাম, সেটার নাম দিয়েছে "Little Butterfly Girl"!’
স্ট্যাটাসে আরও লিখেছেন, ‘তোমার মেয়ের আবদারের বহর তো তোমার জানাই আছে। আম্মুর কাছে তোমার জন্যে অর্ডার দিয়েছে "দাদু, বাবাকে বলবা, my little pony নিয়ে আত্তে (আসতে)! নিয়ে আসবা তো ওর জন্যে তাই না? ওকে দেখে মনে হচ্ছিলো, আমিও যদি ওর মতো হতাম। দুনিয়াদারি সম্পর্কে ধারণা নাই। কোনও টেনশন নাই। কি নিশ্চিন্ত ও! ওর খালি একটাই টেনশন, বাবার মনে থাকবে তো পানি আনার কথা! কাল ওকে দেখতে গিয়ে আমি প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। ভয় হচ্ছিলো, ও যদি জিজ্ঞেস করে বসে, "বাবা কবে আসবে?" অথবা "বাবা আমাকে ফোন দেয় না কেন?"! আমি কি জবাব দেবো! ভাইয়া, তুমি কী জানো কতটা অধীরভাবে আমরা প্রত্যেকে অপেক্ষায় আছি তোমার? তোমাকে যে খুব দরকার। খুব বেশি দরকার।’
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসানকে ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক বছর যাবত বেসরকারি নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড স্যোশিওলজি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি।