বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৭ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ বৈঠকে ১২ ডিসেম্বরকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি দিবস হিসেবে ঘোষণারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও সারাবিশ্বের সরকার প্রধানদের ওপর পরিচালিত দুটি বিশেষ জরিপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষ তালিকায় স্থান পাওয়ায় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও শেখ রেহানার কন্যা ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক ‘লেবার নিউকামার এমপি অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে পুরস্কৃত হওয়ায় মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এতদিন সরকারের আদেশে পরিচালিত হত। এটি রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। তবে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ আইনের মাধ্যমে চলছে বলে এটির জন্যও আইন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সীমানাও নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। আগে শুধু রাজশাহী বিভাগে এর কার্যক্রম চললেও এখন রংপুর বিভাগের সব জেলাও এর আওতায় আসবে।

তিনি জানান, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য দুটি পর্ষদ করা হয়েছে। এর একটি উপদেষ্টা পর্ষদ, অপরটি পরিচালনা পর্ষদ। উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকবেন পদাধিকার বলে কৃষিমন্ত্রী। এছাড়া এর সদস্য থাকবেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব আসনের সংসদ সদস্যরা। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এর সচিবরাও এর সদস্য থাকবেন, পাশাপাশি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দুই বিভাগীয় কমিশনার, দুই বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এর সদস্য থাকবেন। এছাড়াও সরকার মনোনীত একজন সচিব এর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপদেষ্টা পর্ষদ বছরে একবার সভা করে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উপদেশ দিতে পারবেন।

অন্যদিকে, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হবেন বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি, পুলিশের ডিআইজির একজন প্রতিনিধি, পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধিসহ ১১ জন সদস্য থাকবেন। তারা প্রতি তিন মাসে একবার সভা করতে পারবেন। পরিচালনা পর্ষদ বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আর্থিক বিষয়টিও দেখভাল করবেন।