শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন স্তরের প্রতিবন্ধীদের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য শতকরা পাঁচ ভাগ কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ত করা জাতির নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী ‘ডিজ-অ্যাবিলিটি ইনক্লুসন ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। কানাডা সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ স্কিলস ফর প্রোডাক্টিভিটি (বি-সেপ) প্রকল্পের সহায়তায় সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। সবাইকে আরও সচেতন এবং প্রতিবন্ধীদের সহায়তা করতে হবে। ’
তিনি বলেন,‘কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জন্য শতকরা পাঁচ ভাগ কোটা সংরক্ষিত। প্রতিবন্ধীদের বোঝা না ভেবে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। শিক্ষা লাভ এবং কাজ করার অধিকার তাদের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। কারিগরি শিক্ষাকে সরকার সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্তমানে শতকরা ১৪ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় পড়ালেখা করছে। ২০২০ সালের মধ্যে তা শতকরা ২০ ভাগে উন্নীত করা হবে। ’
তিনি আরও বলেন,‘দুনিয়া উন্মুক্ত। দক্ষতা দেখাতে পারলে সব জায়গায় কাজ করার সুযোগ পাবে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এর ওপরেই আমাদের অগ্রগতি নির্ভর করছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাস এবং আইএলও-র চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার কিশোর কুমার সিং অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নির্দেশিকার (গাইড) মোড়ক উন্মোচন করেন।