ঢাকা গেটের আদলে বাণিজ্য মেলার মূল ফটক, থাকবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

শেখ মুজিবুর রহমানঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এবারের মূল ফটক সাজানো হচ্ছে ঢাকা গেটের আদলে। এখানে দূর থেকে দেখা যাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। মেলার আয়োজক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
গত কয়েক বছর বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক সাজানো হয়েছিল কার্জন হলের আদলে। তবে এবার মূল ফটকে পরিবর্তন এনে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিত্র তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছে ইপিবি।
ইপিবি সূত্র জানায়, এই আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়ে এসেছে নানা প্রস্তাবনা। এগুলো এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নান্দনিক ফটক ও ডিজিটাল লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী এবারের আসর নতুন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী দরপত্র দেওয়া হয়েছে। এজন্য নকশায় ভিন্নতার পাশাপাশি করা হবে ডিজিটাল আধুনিক রোড।
আয়োজকদের মাধ্যমে জানা গেছে, এ বছরও থাকবে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। তবে এর আয়তন অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় বাড়ানো হবে। কারণ প্যাভিলিয়নটিকে আরও তথ্যবহুল আর সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দর্শনার্থীদের কাছে মেলার আকর্ষণ বাড়াতে ও নান্দনিক আবহ রাখতে এবার সুন্দরবনের আদলে পার্ক করা হবে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখির পরিচিতির জন্য থাকবে পৃথক ফিশ অ্যাকুরিয়াম ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম। মূলমঞ্চে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন থাকবে লোকজ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া মেলায় থাকবে ডিজিটাল টাচস্ক্রিন। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন চেনা যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, রফতানি বাণিজ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। দেশীয় পণ্যের স্থানীয় ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল থাকবে এবার। সব মিলিয়ে অতীতের যে কোনও বছরের তুলনায় আকর্ষণীয় হবে এই মেলা। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মেলায় স্টল পেতে ইপিবি দফতরে জমা পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আবেদনপত্র। এর মধ্য থেকে লটারি ও দরপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫১৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন। এর মধ্যে স্টল ২৭৭টি। নির্দিষ্ট সময়ে নির্মাণ শেষ করা, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নির্মাণশৈলী মানসম্পন্ন করাসহ ২৭টি শর্ত দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে স্টল।

ইপিবির একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বরাদ্দের কাজ শেষ হবে। এরপরই অর্থাৎ আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে বেঁধে দেওয়া হবে সময়সীমা। ওই সময়ের মধ্যে স্টল সাজানোর কাজ শেষ না করতে পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছে ইপিবি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে জানানো হয়, আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে। কোনও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে যেন স্টল বরাদ্দ হয়ে না যায় সেজন্য এই পন্থা।

এবারের মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য থাকছে ২৬টি স্টল। এছাড়া বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে ১৮টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৮টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৭টি প্যাভিলিয়ন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এরই মধ্যে ৮০ ভাগ স্টল বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বাকি কাজ।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হবে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি। চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের গণপূর্ত বিভাগের খোলা জমিতে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি হবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৩তম আসর।