জাবি’র ১২ ছাত্রের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারে শিক্ষিকা-সহপাঠীদের আপত্তিকর ছবি প্রকাশের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ১২ ছাত্রের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারের সিক্রেট গ্রুপে শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের ছবি আপত্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২৬ নভেম্বর ৪৫তম আবর্তনের ওই ১২ ছাত্রের বিরুদ্ধে একই আবর্তনের ১৫ জন এবং ৪৩তম আবর্তনের একজনসহ মোট ১৬ জন ছাত্রী বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভাগ থেকে একটি প্রাথমিক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সভাপতি শামছুন নাহার।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  বিভাগটির ৪৫তম আবর্তনের কয়েকজন ছাত্র প্রায় ছয় মাস আগে মেসেঞ্জারে ওই সিক্রেট গ্রুপটি খোলে।  প্রথমদিকে ২০ জন ছাত্রকে এতে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ৪ জন ওই গ্রুপ থেকে স্বেচ্ছায় বের হয়ে যান। গত দুই মাস ধরে ওই গ্রুপের ১২ জন ছাত্র নিয়মিত শিক্ষিকা, সহপাঠী ও বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রীদের গোপনে ছবি তুলে সেগুলো আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করছিল। এরপর সেসব ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্যও করতেন তারা।

সম্প্রতি বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী ওই গ্রুপটির কথা জানতে পারলে তারা  ছবি ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর সেদিনই বিভাগের একাডেমিক সভায় অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শুভ্র কান্তি দে এবং ছাত্র উপদেষ্টা তাসলিন জাহান মৌ। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সহপাঠীদের দ্বারা এমন ঘটনা ভীতিকর। শ্রেণিকক্ষে একটা মেয়ে নিরাপদ না থাকলে তার নিরাপত্তা কোথায়?’

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। সত্যতা যাচাইয়ের কর্ম পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি জানাবেন। তাই এ বিষয়ে আপাতত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’ 

সভাপতি শামছুন নাহার বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তারা সবাই সমান অপরাধী নাও হতে পারে। বিষয়টি তদন্তধীন থাকায় এখনই কারও নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। কমিটির প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে।’