রাখাইনে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি সুশীল সমাজের

24259508_10214209287843140_531732690_oমিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরত পাঠানো,রাখাইনে সংগঠিতভাবে গণহত্যা ঘটেছে এমন ঘোষণা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন সুশীল সমাজ। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ (রামরু) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তারা এ দাবি জানান।

কনফারেন্সে বিশ্ব ধর্ম সংসদের ইমেরিটাস মালিক মুজাহিদ বলেন, ‘গণহত্যা দ্বিপক্ষীয় কোনও বিষয় না। এটা আন্তর্জাতিক বিষয়।’ উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাখাইনের তুলাতলী নামের একটি গ্রামে চার হাজার লোকের মধ্যে এক হাজার ৭০০ লোককে হত্যা করা হয়েছে।সেখানে ২৮৮টি গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে গ্রামগুলোর একটি প্যাগোডাও পোড়ানো হয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সিআর আবরার বলেন, ‘রাখাইনে গণহত্যা চলছে এটাতে কোনও সন্দেহ নেই। আমাদের কাছে প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ আছে, যা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। মিয়ানমারের ওপর এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এ বিষয়ে বিরোধিতা করছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাখাইনে যা ঘটছে তা পুঁজিবাদের কারণেই হচ্ছে। এতে রাশিয়া, চীন ও ভারতের সমর্থন আছে।’

তিনি আরও বলেন, রাখাইনে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মিল আছে। এ সময় তিনি মিয়ানমারের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের দাবি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আকরুজ্জামান বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য যে তাকে মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে হচ্ছে।’

১৯৯৪ সালে নিজের গবেষণা থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা নেওয়ার আগে রোহিঙ্গারা দেশটির নাগরিক অধিকার ভোগ করতো। এখন তাদের হত্যা করে মিয়ানমার সরকার তার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।’

আরও পড়ুন:
কেন রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি পোপ?