রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিরাপত্তায়: প্রধানমন্ত্রী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী (ছবি- ফোকাস বাংলা)রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পারমাণবিক নিরাপত্তার দিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পারমাণবিক এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’র (আইএইএ) গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করছি।’
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আইএইএ’র সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। যেকোনও দুর্যোগে আমাদের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রেখেই এই প্ল্যান্টের ডিজাইন করা হয়েছে। পরিবেশ ও মানুষের যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী (ছবি- ফোকাস বাংলা)শেখ হাসিনা বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং দেশের সর্বপ্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জাতীয় পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য আমরা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ প্রণয়ন করেছি। এছাড়া, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নামে একটি স্বাধীন পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই সংস্থা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে আইএইএ ও রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রটোকলেও অনুস্বাক্ষর করেছে।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগ সরকার নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রুশ ফেডারেশন এসব বর্জ্য তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যাবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে স্মারক ডাকটিকিটও অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আ ফ ম রুহুল হক, রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লেখাচভ ও আইএইএ’র পরিচালক দোহি হ্যান।
অনুষ্ঠানে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করছেন প্রধানমন্ত্রী (ছবি- ফোকাস বাংলা)অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শওকত আকবর।
এর আগে, বুধবার সকালে নির্মাণস্থলে যে ভিতের ওপর পারমাণবিক চুল্লি তৈরি হবে, তাতে কংক্রিট ঢালাই শুরু করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর তিনি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জোগান দেবে। রোসাটামের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ও জেএসসি অ্যাটমস্ট্রোক্সপোর্টের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়। আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম ও অ্যাটমস্ট্রোক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির এন সাভুসকিন এই চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে সই করেন।
রোসাটাম নিযুক্ত রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রোক্সপোর্টের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। ২৬২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াট। বাসস।