‘অরুণ আলো’য় রোমের পথে পোপ

পোপ ফ্রান্সিস (ফাইল ছবি)তিন দিনের সফর শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের  উড়োজাহাজ ‘অরুণ আলো’য় চড়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। শনিবার বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে  তিনি  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। 

বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোসাদ্দিক আহমেদ ও মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ পোপের সঙ্গে রোম যাচ্ছেন। ঢাকা থেকে সরাসরি রোমে পোপকে বহনকারী বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজের অরুণ আলোয় আছেন ক্যাপ্টেন ফজল ও ক্যাপ্টেন ইহছাক। এছাড়া তাদের সহায়তার জন্য রয়েছেন ফার্স্ট অফিসার রুবায়েত ও মইনুল। এর আগে মিয়ানমার থেকে ঢাকা ফ্লাইটটি পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন তাসনিম ও ক্যাপ্টেন নিক্সন ও ফার্স্ট অফিসার ছিলেন সুমায়লা।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘ভিভিআইপি ফ্লাইট মর্যাদায় পোপকে বহন করার জন্য বিমানকে বেছে নেওয়ায় ভ্যাটিকানের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এতে বিমানের প্রতি খ্রিস্টান ধর্মীয় গুরুর আস্থা প্রকাশ পেয়েছে। পোপ ফ্রান্সিসকে বহনের মধ্য দিয়ে বিমান নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হলো। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গৌরবময় ঘটনা।’

বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, ‘এর আগে গত ৩০ নভেম্বর পোপ ফ্রান্সিস  বিমানের বিশেষ  ভিভিআইপি ফ্লাইট মেঘদূতে চড়ে মিয়ানমার থেকে ঢাকা আসেন।’

এর আগে শনিবার সকালে তেজগাঁও মাদার তেরেজা ভবন পরিদর্শন করেন  পোপ ফ্রান্সিস। এছাড়া, তেজগাঁও গির্জায় যাজক, ব্রাদার-সিস্টার, সেমিনারিয়ান ও নবিসদের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। এছাড়া তেজগাঁও কবরস্থান ও পুরনো গির্জা পরির্দশন করেন। শনিবার বিকালে রাজধানীর নটরডেম কলেজে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পোপ ফ্রান্সিস।

উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মিয়ানমার থেকে ঢাকায় আসেন পোপ ফ্রান্সিস। সফরের প্রথম দিনে  সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ওই দিন বিকালে তিনি বঙ্গবভনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বঙ্গভবনেই বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন  ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, কূটনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিত হন পোপ। ২য় দিনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনা ও যাজকদের অনুষ্ঠানে যোগ দেন পোপ ফ্রান্সিস। বিকালে ভ্যাটিকান দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এছাড়া ১৬ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা  প্রতিনিধি দলও  তার সঙ্গে দেখা করে।