ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজ করতে সংশ্লিষ্টদের অনীহা রয়েছে: টিআইবি

ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজ করার কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকের অনীহার কারণে তা পুরোপুরি ডিজিটাইজ সম্ভব হয়নি। পুরোপুরি ডিজিটাইজ করা সম্ভব হলে এ খাতে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রবিবার টিআইবি’র মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।

‘নাগরিক সেবায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার: ভূমিকা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) বেশ কয়েকটি সেবার মধ্যে একটি হলো জমির পর্চার জন্য অনলাইনে আবেদন করা। জরিপভুক্ত ইউডিসিগুলোতে জমির পর্চার জন্য আবেদন করেছেন মাত্র এক শতাংশ। তবে ইউডিসিতে এ সেবা নিতে গিয়ে কোনও ধরনের আর্থিক দুর্নীতির শিকার হননি সেবা গ্রহীতারা। কিন্তু জমির পর্চা উত্তোলন সেবা সব ইউডিসি থেকে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, এখনও সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করা হয়নি।

তিনি বলেন,এ খাতটি পুরো ডিজিটাইজ না হওয়ার কারণ হচ্ছে,সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এ খাতটি পুরোপুরি ডিজিটাল হোক তা চান না। কারণ, পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেলে এ খাতে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে।ফলে এসব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।   

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ইউডিসিতে ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজ হয়েছে সেখানে কোনও ধরনের আর্থিক অনিয়ম ছাড়াই সেবা গ্রহীতারা সেবা নিতে পারছেন। অপরদিকে, জেলা পর্যায়ের ভূমি রেকর্ড রুম থেকে জমির পর্চা উত্তোলনের জন্য ৫৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে গড়ে ৭৩৭ টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে।

টিআইবি দ্বারা পরিচালিত এ গবেষণায় ইউডিসি’র ভূমিকা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে আনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। ডিজিটাইজ পদ্ধতিতে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা এবং সেবাদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করতে ২০০৯ সালে ইউনিয়ন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার (ইউআইএসসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা পরবর্তীতে ২০১৪ সালে  ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামকরণ করা হয়।

জরিপকৃত ইউডিসিগুলোতে সপ্তাহে গড়ে ৬ দিন এবং প্রতিদিন গড়ে ৯ ঘণ্টা খোলা থাকে। ৯৩.২ শতাংশ সেবাগ্রহীতা সময়মতো ইউডিসি’র উদ্যোক্তাদের পেয়েছেন। ডিসেম্বর ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী জরিপকৃত ইউডিসিগুলো দৈনিক গড়ে ২৬ জন (নারী-৮জন, পুরুষ-১৮ জন) বা মাসে গড়ে ৭৮৫ জন (নারী-২৩০, পুরুষ-৫৫৫ জন) সেবাগ্রহীতাদের সেবা দিয়ে থাকে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী খানার ৩০.৮ শতাংশ ২০১৬ সালে ইউডিসি থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সেবা নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি, যার হার ৭১.৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম সেবাগ্রহীতা রয়েছেন বিভিন্ন তথ্য সেবা নেওয়া ক্ষেত্রে, যার হাত ০.৪ শতাংশ। এছাড়া ইউডিসি’র মাধ্যমে দেওয়া অন্যসেবাগুলো হলো- সনদ কম্পোজ-প্রিন্ট(০.৭%), ছবি তোলা-প্রিন্ট(৭.২%), ফটোকপি-লেমেনেটিং(৪.৮%)। অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদনপত্র পূরণ ও প্রিন্ট(০.৭%) এবং জমির পর্চার জন্য অনলাইনে আবেদন(০.৫%) ভাগ সেবা নিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ভিন্নতা ও স্থানীয়ভাবে সব সেবার চাহিদা একরকম  না হওয়ায় সব ইউডিসিতে সব ধরনের সেবা একইভাবে সহজলভ্য নয়। এলাকাভেদে সেবার চাহিদা ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে এবং উদ্যোক্তার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি। এছাড়া এসব উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।