রোহিঙ্গা ইস্যু এখন আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম বলেছেন,রোহিঙ্গা সমস্যা এখন আর দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়। আজ  মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) জেনেভাতে ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরব এই অধিবেশনের জন্য অনুরোধ করে নোটিশ দেয় এবং মোট ৪৭টি সদস্য দেশের মধ্যে ৩৩টি দেশ এতে সমর্থন দিয়েছে। এছাড়া সদস্য নয় এমন ৪০টি দেশ এ বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধকে সমর্থন করেছে।

সকালের অধিবেশনে মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৮টি সদস্য দেশ, মিয়ানমার, মানবাধিকার কাউন্সিলের কমিশনার যেইদ বিন রাদ, জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেলের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন, মানবাধিকার কাউন্সিল মনোনীত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান, সমন্বয় কমিটির প্রধান দেভানদাস এ্যাগুইলার বক্তব্য রাখেন।

অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমাদের কিছু বন্ধু বলেছে বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করার জন্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সবসময় দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু মিয়ানমার বিশেষ করে ২০০৫ এর পর থেকে কখনই আগ্রহ দেখায়নি। আমরা বিশ্বাস করি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন আছে।’

গতমাসে দুইদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি সামগ্রিক সমাধানের একটি অংশ।’

আন্তর্জাতিক তদন্তে বাধা দেওয়া, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ঢালাওভাবে প্রত্যাখান করা এবং এত অল্প সময়ের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ঈঙ্গিত করে সেখানে জাতিগত নিধন এবং সম্ভবত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।

এ অধিবেশনে অন্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কয়েকটি বিষয়ের ওপর বেশি জোর দেন।

বিষয়গুলো হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে মিয়ানমারে কাজ করার অনুমতি দেওয়া, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের নিন্দা জানানো, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহবান।