‘জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা কেউই মেনে নেবে না’

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণাকে মোটেও গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) সুয়োমোটা নীতিতে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা ইসলামি বিশ্বের কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর মাধ্যমে জাতিসংঘের রেজ্যুলেশনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এটা কেউই মেনে নেবে না।’ বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। 
শেখ হাসিনার ভাষ্য, ‘ফিলিস্তিনের একটি অধিকার রয়েছে। এভাবে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া মানে বিশ্বব্যাপী অশান্তি সৃষ্টি করা। আমেরিকাই কিন্তু ইসরায়েলে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু এখন তাদের মাধ্যমেই আবার অশান্তির পথে সবাইকে ঠেলে দেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এজন্য সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানাই। ফিলিস্তিন যেন ন্যায্য অধিকার পায় সেজন্য মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হবে, এটাই আমরা চাই।’
শেখ হাসিনার সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফরের ওপর বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনটি হয়েছে। এখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কারণে খালেদা জিয়ার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বললেন, ‘শরণার্থীদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। প্রতিবেশী দেশ বলেই আমি চাই, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তা পাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবাই খুব সহানুভূতিশীল। এতসংখ্যক শরণার্থীর চলে আসাটা কেউই ভালো চোখে দেখছে না। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনও এ বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।’
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে গত ৩ নভেম্বর দেশটির রাজধানী নমপেনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দিনের সরকারি সফর শেষে কম্বোডিয়া থেকে ৫ ডিসেম্বর বিকালে দেশে ফেরেন তিনি। তার এই সফরে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটন, কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল, আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

ঢাকা ও নমপেনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুই দেশের জাতির পিতার নামে নামকরণের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার রয়েল প্যালেসে রাজা নরদম সিহামনের দেওয়া রাজকীয় অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। কম্বোডিয়ান চেম্বারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংলাপে অংশ নেওয়া ছাড়াও তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন।

এছাড়া কম্বোডিয়ার স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে দেশটির প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। নমপেনের কেন্দ্রস্থলে তুল সেলং জেনোসাইড মিউজিয়ামও পরিদর্শন করেছেন তিনি।

২০১৪ সালে ১৬ থেকে ১৮ জুন শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন।
আরও পড়ুন-

তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আসতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার নিজের উচিত ক্ষমা চাওয়া: প্রধানমন্ত্রী

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি ট্রাম্পের