এর আগে আসামি পক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমেদের পক্ষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সময়ের আবেদন করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফোরকান মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এ দুইজন ছাড়া বাকি আসামিদের অভিযোগ গঠন শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় সংস্থাটি। ২০১৫ সালের ১৮ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা নাইকো দুর্নীতি মামলা স্থগিত করেন দেওয়া আদালতের আদেশ বাতিল করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে বাংলাদেশের দু’টি গ্যাস ফিল্ডকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পরিত্যক্ত গ্যাস ফিল্ড হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি অদক্ষ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনা টেন্ডারে এবং সরকারি নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে ছাতক ও ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে সেখানে মজুদ ২৭৬২ বিসিএফ গ্যাসের মধ্য থেকে উত্তোলনযোগ্য ১৭৪৪ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের অবৈধ সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রের ন্যূনতম ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়।
অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব খন্দকার শাহিদুল ইসলাম, নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেডের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসেন, বাপেক্স’র সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক কোম্পানি সচিব মো. শফিউর রহমান, ওয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সেলিম ভূঁইয়া।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন, তবে ছোট হবে মন্ত্রিসভা