জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থায়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি)’ শীর্ষক এক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু খাতে সাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) হোটেল সোনারগাঁওয়ে এই পরিকল্পনার উদ্বোধন করা হয়। ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষ্টি সংস্থার কারিগরি সহায়তায় পাঁচ বছর মেয়াদি (২০১৬ থেকে ২০২১)এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী দেশ। বিশ্বের মোট কার্বন নির্গমনের ৫৫ ভাগ মূলত বিশ্বের পাঁচটি দেশ-ব্রাজিল, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া করে থাকে।এই কার্বন নির্গমনের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহুদেশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, দায়ী দেশগুলো জ্বালানি খাতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণেই এই সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। পাশাপাশি কার্বন নির্গমন কমাতে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ৫ বছরের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের চিন্তা করে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে পুনর্বাসনের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর কাজও করা হবে ব্যাপকভাবে। এক্ষেত্রে দাতা দেশগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনগত সমস্যা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটি সারা বিশ্বের সমস্যা। বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে নানা পরিকল্পনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন,পরিবেশ,বন ও জলবায়ুর পরিবর্তন খাতে সঠিক ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনে এই কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহায়ক হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে ইউএসএইডের মিশন ডিরেক্টর জেনিনা জেরুজালস্কি বলেন,২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সিআইপি এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন ও তার নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমে সিআইপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদের মধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন, অতিরিক্ত সচিব মোহম্মদ জিয়াউর রহমান,এফএও এর বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান বক্তব্য রাখেন।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়,গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ কমিটির সভায় এই পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়।সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে তাদের স্ব স্ব উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিআইপির-র বিনিয়োগ কাঠামো অনুসরণের জন্য আহ্বান করা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের পরিবেশ খাতে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সাধন করা যাবে এবং নিয়মিত মনিটরিং এর মাধ্যমে বিনিয়োগের ফলাফল নির্ণয় করা সম্ভব হবে।