‘গেজেট নিয়ে কারও বিরূপ মন্তব্য ঠিক নয়’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম (ফাইল ছবি)

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্য যারা বিরূপ মন্তব্য করছেন তারা তা ঠিক করেননি বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সকালে আমরা নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আদালতে পেশ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু একজন বিচারপতিও না থাকায় আদালত এ বিষয়টির শুনানির জন্য আগামী ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।’

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছিলেন, ‘নিম্ন আদালতের গেজেটের মাধ্যমে মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগের যে স্বাধীনতার স্পিরিট ছিল তা ধ্বংস হয়েছে।’

জয়নুল আবেদীনের এই মন্তব্য সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই গেজেট প্রকাশের আগে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন এবং তাদের সম্মতি নিয়ে এই গেজেট প্রকাশ করেছেন। তাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্য যারা বিরুপ মন্তব্য করছেন, তারা সঠিকভাবে মন্তব্যগুলো করছেন না। তাদের এমন মন্তব্য ঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার কারণ হলো, রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সবাইকে নিয়োগ করেন। নির্বাহী বিভাগের কর্মচারীদের, প্রধান বিচারপতিকে, অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ দেন এবং পার্লামেন্টের সেশনও তার আদেশে শুরু ও সমাপ্ত হয়। রাষ্ট্রপতিকে যদি এই বিচারপতিদের শৃঙ্খলাবিধির দায়িত্ব থেকে বা তার কর্তৃত্ব থেকে বিচারপতিদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সুপ্রিম কোর্টই সব করে, তাহলে তা সংবিধানের স্পিরিটের বাইরে হবে।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, যত আইন বা রুলস হয়, সেগুলো সংবিধানের পরিপন্থী হলে চলবে না। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এদের (নির্বাহী বিভাগের কর্মচারীদের, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য) নিয়োগ, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা আছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই গেজেট প্রকাশ হয়েছে।’

সমালোচনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত সমালোচনা। তার কারণ, সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় ও প্যারাগ্রাফে বর্ণিত আছে, সুপ্রিম কোর্ট যদি মনে করে, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও বিচারকের সম্পর্কে পদক্ষেপ নেবেন। এটা তারা করতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির পরামর্শ নিতে হবে।’