প্রাথমিকে প্রশ্ন ফাঁসের দায় সরকারের নয়: সংসদীয় কমিটি

প্রশ্নপত্র ফাঁসপ্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় বিভিন্ন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের দায় সরকারের নয় বলে দাবি করেছে সংসদীয় কমিটি। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয় তা আমরা জানি না। প্রাথমিকের প্রশ্ন উপজেলা পর্যায়ে স্কুলভিত্তিক তৈরি করা হয়। এই প্রশ্ন ফাঁসের দায় সরকারের নয়।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় (পিইসি) প্রশ্ন ফাঁস হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কিনা তা প্রমাণের জন্য টাকা দিয়ে ১২ সেট প্রশ্ন কিনেছি। কিন্তু পরে দেখা যায় তার একটাও মেলেনি।’

তিনি জানান, প্রশ্ন ফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন স্থানীয় শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। এখানে প্রশ্ন ফাঁসে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তবে প্রশ্ন ফাঁসের পরে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো পরীক্ষা বাতিল করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

উল্লেখ্য সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জেলায় প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর নাটোর সদর উপজেলায় পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১০২টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করে উপজেলা শিক্ষা কমিটি।

এর আগে বরগুনায় কয়েক দফায় স্কুলের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর বরগুনার বেতাগী উপজেলার স্কুলগুলোয় চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণির গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বেতাগী উপজেলার ১৪০টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

গত ৯ ডিসেম্বর বরগুনা সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর বরগুনা সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির তিন বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পেয়ে সদর উপজেলার ২৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।