১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে দিরাই তিনরাস্তার মোড় বাজারে কথা হয় একাধিক স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। তারা জানান, এখনও তীরশিলং সবাই চিনতে পারছে না। তবে চালকশ্রেণির অনেকেই এই জুয়ায় সম্পৃক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কয়েকদফা বাধায় প্রকাশ্যে এই জুয়াটি খেলতে কম দেখা যায়।
দিরাইয়ের মদনপুর পয়েন্টে কথা হয় অন্তত দশজন স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে। তারা জানান, সুনামগঞ্জের ওয়েজখালী পয়েন্ট, দিরাই উপজেলার কিছু গ্রাম, পাগলা, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, খাটৈর, সুনামগঞ্জ শহরে প্রবেশের আগে পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ট্রাফিক পয়েন্টসহ কয়েকটি এলাকায় তীরশিলং জুয়াটি খেলা হয়। এইস্থানগুলোয় যাদের খেলতে দেখা যায় স্থানীয়দের দাবি তাদের বেশিরভাগই ড্রাইভার। বাস, ট্রাক, অটোর। আবার পাথর উত্তোলনকারী অনেকেও জুয়াটি খেলে।
দিরাই যাওয়ার পয়েন্টে এসময় আরও অনেকেই যুক্ত হয় আলাপে। নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘মদনপুর গ্রামের একজন। নাম জানি না। শুনছি বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছে।’ ভিটা বিক্রি করে দেওয়া জুয়াড়ি যুবকের নাম স্মরণ করতে না পেরে মাথায় চুলকান সাজ্জাদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। বলেন, ‘আরে খিতা জানি, এখন তো পয়েন্টো দেখি না।’ ইতোমধ্যে আশপাশের আরও মানুষ প্রতিবেদককে ঘিরে দাঁড়াতে শুরু করলে সরে পড়তে থাকেন তথ্যপ্রদানকারীরা। নানা প্রশ্নে চুপ করে থাকেন।
সুনামগঞ্জ শহরে দাঁড়িয়ে কথা হয় স্থানীয় একটি হোটেলের মালিকের সঙ্গে। নিজের পরিচয় ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সুনামগঞ্জে তীরশিলং জুয়াটি আনে মিনিবাস চালক শামারুল ইসলাম ওরফে শাম।’ হোটেল মালিক বলেন, সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে যেখানে জুয়াটি হয়, এর পাশেই প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়।
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার স্থানীয় এক প্রাইভেট গাড়ির চালক জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী বালিয়াঘাট নতুন বাজার, ছাড়াগাও বাজার, কলাগাও বাজার, বড়ছড়া জয় বাংলা বাজার, বাগলী বাজার, বাদাঘাট বাজার, ড্রাম্পের বাজার, শ্রীপুর উত্তর বাজার, তাহিরপুর সদর বাজার, একতা বাজারসহ অনেক অবাধে চলছে তীরশিলংয়ের জুয়া।
সুনামগঞ্জে জেলার স্থানীয় এক সাংস্কৃতিক-কর্মী জানান, জেলা শহরের গোবিন্দগঞ্জ নতুনবাজার, গোবিন্দগঞ্জ পুরাতন বাজার, স্কুল রোড, রহমতুন নেছা মার্কেটের ভেতরের গাড়ি পার্কিংয়ে, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা টেটিয়াচরবাজার, ধারণ নতুনবাজার, চৌকা পয়েন্ট, দোলারবাজার, পীরপুরবাজার, পালপুর পয়েন্ট, জাহিদপুর নতুন ও পুরাতন বাজার, মানিকগঞ্জবাজার, লাকেশ্বর বাজার, রাধানগর পয়েন্ট, খিদুরা পয়েন্ট, সোনালী বাংলাবাজার, কালারুকা বাজার ও পয়েন্ট, তাজপুর পয়েন্ট, বুড়াইরগাঁও বাজার, নোয়ারাইবাজার, আন্দাইরগাঁও পয়েন্ট, আমরতলবাজার এলাকায় তীরশিলং জুয়া শুরু হয়েছে।
এক্ষেত্রে জাকেরীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও তৎপরতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও তৎপর হওয়া দরকার। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও বলি আমরা। তবে ল এনফোর্স করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা এ বিষয়ে বড়জোর অরিয়েন্টেশন করতে পারি’।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিলেটে নানা জায়গা বাধা পেয়ে জুয়াড়িরা এখন সুনামগঞ্জ এর দিকে যাচ্ছে। সবাই মিলে এটা প্রতিরোধ করতে হবে।’
একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন, ‘না তীরশিলং খেলা তো ইখানদি দেখলাম নাই। আমার ইউনিয়নে খেলাটা আসে নাই। আমি নজর রাখছি।’
জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এই সিরিজের আগের তিন পর্ব পড়ুন-
শিলংয়ের জুয়ায় দিশেহারা সিলেট (ভিডিও)