অনশনেও আশ্বাস মিলছে না, বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকদের সংখ্যা

শহীদ মিনারে অনশনরত শিক্ষকদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত তিন দিন ধরে টানা অনশন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।  অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের অসুস্থতার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অথচ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এমনকি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে এখনও কোনও বার্তা আসেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষকরা।

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত  ২০ জনের বেশি শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর আগে রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) আরও  ৪০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।  তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত যারা অসুস্থ হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নারী। অন্তত ১২ জন নারী শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে জানান তারা।

সহকারী শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি শাহীনুর আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ  (সোমবার) সকাল থেকে অন্তত ২০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। অন্তত ১২ জন নারী শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন।  এছাড়া, অনশন চলাকালীন তিন দিনে এ পর্যন্ত অসুস্থতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  অন্তত ৬০ জন।’ 

তিনি বলেন, ‘অনেককেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।’

শিক্ষকরা জানান, টাঙ্গাইলের রসুলপুরের কাকলী দে, ঝালকাঠির প্রজ্ঞা লাবনী দীপাসহ আরও  অন্তত ৯ জন নারী শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।  তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ইব্রাহিম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক। 

শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অনশনসহকারী শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি শাহীনুর আখতার জানান, মন্ত্রণালয়ে আমাদের প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের বৈঠক চলছে বলে জেনেছি।

শাহীনুর আখতার ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘গত তিন বছর ধরে মন্ত্রণালয়কে আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। তাদেরকে স্মারকলিপি দিয়েছি। সংবাদ সম্মেলন করেছি। এমনকি অনশনে যাওয়া আগেও তাদের জানিয়েই অনশনে নেমেছি। পদ্ধতিগতভাবেই আমরা বারবার জানিয়েছি, বেতন বৈষম্য নিরসন না করলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো। তবু তারা আমাদের কথা কানে নেননি।’ 

মন্ত্রণালয় অথবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর শিক্ষকদেরকে অনশন থেকে ফেরাবে কিনা জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-মহপরিচালক রমজান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা আমাদেরকে আগে কিছুই বলেনি। আমরা কিছুই জানি না। তাছাড়া, এটা তো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এত বড় একটি ইস্যু এটা সমাধান করতে তো সময় লাগবে। কিন্তু তারা সময় দিতে রাজি না। অনশন চলাকালীন সময়েও আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বলেছি, বাড়ি ফিরে যেতে। মন্ত্রণালয় আপনাদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সমাধান করবে। কিন্তু তারা আন্দোলনে অনড় রয়েছেন। এছাড়া, বিষয়টি একেবারেই মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যাপার।’

এ বিষয়ে জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমানকে বারবার ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। মহাজোটের অধীনে সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠনের কয়েক হাজার শিক্ষক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে যোগ দিয়েছেন অনশন কর্মসূচিতে।

 

 আরও পড়ুন: তৃতীয় দিনের মতো অনশন চলছে শিক্ষকদের